মানিকগঞ্জে গণপরিবহনে নিয়মকানুনের বালাই নেই

মানিকগঞ্জে গণপরিবহনগুলোতে নিয়মকানুন সব কাগজে কলমে, বাস্তবে সেগুলো মেনে চলার কোনো বালাই নেই। ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটের সব বাস সার্ভিসেই এই অবস্থা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে পুরোনো বাস কোম্পানিগুলো। ফিটনেস সার্টিফিকেটে আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে লেখা থাকলেও তা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে একটি বাসেও এই নিয়ম মেনে চলার নজির পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ বাসেই নির্ধারিত সংখ্যার চেয়েও ১০ থেকে ১৫টি সিট বেশি বসানো হয়েছে। এতে করে যাত্রীদের অতি কষ্টে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সিটের নামে আলগাভাবে বসানো গদির টুকরো ছাড়াও চালকের পাশে থাকা ইঞ্জিন কাভারের ওপরেও গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া চালকের পেছনের ৯টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেদিকে খেয়াল নেই পরিবহন কর্তৃপক্ষের। ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন কাভারের ওপর সিট নামক বস্তুটিতে প্রতিনিয়ত বসাচ্ছে যাত্রীদের, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে প্রতিদিন শুভযাত্রা, পদ্মালাইন, নীলাচল, যাত্রীসেবা, এএনবি, সেলফী, স্বপ্ন, বিআরটিসির বাসসহ সহস্রাধিক বাস চলাচল করে। এসব গণপরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রীসাধারণের অভিযোগের শেষ নেই। লক্কড়-ঝক্কড় বাস, যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বিরতিহীন বাসের ভাড়া নিয়ে লোকাল যাত্রী বহন, সিটে বসিয়ে ও দাঁড় করিয়ে একই হারে ভাড়া আদায়, আসনসংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী বহনসহ অসংখ্য অভিযোগ এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের। দীর্ঘদিনেও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন না হওয়ায় এবং ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে আধুনিক বাস তেমন একটা সংযোজিত না হওয়ায় পরিবহন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি কয়েকটি ভালো মানের বাস এই রুটে সংযোজন করা হলেও কমেনি যাত্রী হয়রানি। যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবহনের মালিকেরা যাত্রীসেবার মান বাড়ানো দূরের কথা, বরং তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। বিরতিহীনের ভাড়া আদায় করলেও সব স্টেশনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলছে, নামাচ্ছে। গত বুধবার দুপুরে ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফুর রহমান শুভযাত্রা, নীলাচল, পদ্মালাইন, সেলফী ও স্বপ্ন পরিবহনের ফিটনেস পরীক্ষা করেন। এই প্রতিবেদক তখন তার সঙ্গে ছিলেন। দেখা যায়, বাসে যে কয়টি সিটের অনুমোদন রয়েছে, তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫টি সিট বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা সিটগুলোতে গাদাগাদি করে বসতে বাধ্য হচ্ছে। ইঞ্জিন কভারের ওপর নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সিটে বসানো হয়েছে যাত্রীদের। চালকের পেছনে ৯টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেই নিয়ম মানছে না কোনো পরিবহন। যাত্রীদের মধ্যেও এ ব্যাপারে অসচেতনতা লক্ষ করা গেছে। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ‘কেউ যদি বাসে অনুমোদনের অতিরিক্ত সিটের ব্যবস্থা করে থাকে, সেটি অবশ্যই অন্যায় এবং এতে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মানিকগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা আসনসংখ্যা নিয়মমাফিক আছে কি না, তা দেখে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেই। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আসনসংখ্যা বাড়াতে পারে। যাত্রী হয়রানির বিষয়টি প্রতিকারে আমরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করব।’ মানিকগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) গোলাম আম্বিয়া বলেন, ‘গণপরিবহনের অনিয়মের বিষয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের শতভাগ সেবার মান নিশ্চিতের বিষয়ে পরিবহন মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হবে।’

মানিকগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, অটোটেম্পো ওনার্স গ্রুপের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম পরিবহনে অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করব।’