জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ দপ্তরেই নেই পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। প্রায় সব কটি দপ্তরই চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। প্রশাসনিক অফিসগুলোকে নিজের অনুগত রাখতেই উপাচার্য কাউকে পূর্ণক্ষমতা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চালাচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপাচার্যের ও প্রশাসনের বশ্যতা স্বীকার করানোই ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের মূল লক্ষ্য। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারীরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন না। তবে এভাবে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলতে থাকলে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, কম্পট্রোলার, প্রকৌশল, মেডিক্যাল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, জনসংযোগ ও শারীরিক শিক্ষা-প্রধানরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের দুই ডিন এবং ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলে ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট দিয়ে হল পরিচালনা করছে প্রশাসন। হলগুলো হলো মীর মশাররফ হোসেন হল, আল বেরুনী হল, মওলানা ভাসানী হল, আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল ও প্রীতিলতা হল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, উপাচার্য যে কোনো প্রয়োজনে উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ বাদে সব পদে অনধিক ছয় মাসের জন্য যে কোনো পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু উপাচার্যকে এই নিয়োগের বিষয়টি পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটকে অবহিত করতে হবে ।
এই ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যায়ের আটটি দপ্তরের বিভিন্ন পদে ছয় মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ঐসকল পদে নিয়োগকৃতদের মেয়াদ ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তারা স্বপদে বহাল রয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমান রেজিস্ট্রার ১৪ মাস, প্রক্টর সাত মাস, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদের ডিন ১৭ মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ২৬(৫) ধারা অনুযায়ী, অনুষদের ডিন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষকের ভোটে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের মে মাসে। সেই হিসেবে অনুষদগুলোর ডিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগেই। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন দিয়েই অনুষদগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণদের বিষয়ে বারবার উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়েছি। তবে সিন্ডিকেট সদস্যদের এ বিষয় নিয়ে বেশি সোচ্চার হওয়া দরকার।’
উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভারপ্রাপ্তদের বিষয়টি বিবেচনাধীন। এছাড়া তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।