চাটখিলে ক্লিনিকে যমজ তিন শিশুর মৃত্যু

যমজ তিন সন্তানের মা রুমানা আক্তার মুন্নি বারবার জ্ঞান হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন, কিছুই খাচ্ছেন না। গতকাল শুক্রবার তার যমজ তিন মেয়ে চাটখিল উপজেলা সদরে স্কয়ার নামে একটি ক্লিনিকে মারা গেছে। ভুল চিকিত্সা, নাকি ক্যানোলার মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। মুন্নি উপজেলার রামনারায়ণপুরের পশ্চিম রামনারায়ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাশেদের স্ত্রী।

জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই ঢাকার আদদ্বীন হাসপাতালে মুন্নির তিন সন্তানের জন্ম হয়। এদের নাম রাখা হয় আয়েশা, ফাতেমা ও মরিয়ম। মুন্নি সুস্থ হয়ে তার সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। গত শনিবার তাদের চিকিত্সার জন্য চাটখিল স্থানীয় স্কয়ার হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে আনা হয়। সেখানে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার মিজানুর রহমান চিকিত্সা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুই দিন পর এদের চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে ডাক্তার মিজানুর রহমান ওদের হাসপাতালে ভর্তি না করে চিকিত্সা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেন। গত বুধবার রাতে এই তিন শিশুর অবস্থা খারাপ হলে ঐ ক্লিনিকে এনে ৯০০ টাকা চিকিত্সা ফি এবং ৩০০ টাকা ভর্তি ফি দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মুন্নির বোন সালেহা বেগম গতকাল শুক্রবার জানান, ভর্তির পর তিন শিশুকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ওটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার মিজানুর রহমানের চিকিত্সাপত্র অনুযায়ী নার্স প্রথমে ক্যানোলা লাগিয়ে ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এরপর থেকে তিন শিশু চিত্কার করে কান্না শুরু করেন। টানা আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা কান্নার পর প্রথমে আয়েশা মারা যায়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়, কিন্তু মৃত্যুর সনদ দেয়নি। এরই মধ্যে হাসপাতালে অন্য দুই শিশু ফাতেমা ও মরিয়মও মারা যায়। এরপর তারা তিন শিশুকে বাড়িতে এনে দাফন করেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ জানান, তাদের হাসপাতালে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তার মিজানুর রহমান জানান, তিন শিশুই অপরিণত এবং ওজনে কম ছিল। এদের অবস্থাও খারাপ ছিল, কোথাও পাঠানোর সুযোগ ছিল না। এরা ডায়রিয়া সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিল। থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেবেন।