এক মাস পর হাজারের নিচে নেমে আসল ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬০ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা গত এক মাসে সবচেয়ে কম। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৪৯ জন এবং ঢাকার বাইরে ৪১১ জন। এদিকে গতকাল ডেঙ্গুতে আরো দুই জন মারা গেছে।
ঠিক এক মাস আগে ৩১ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৫৬২ জন। আর এই এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল গত ৭ আগস্ট। ২১ আগস্টের পর থেকে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৭০ হাজার ১৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ১৫০ জন। এ পর্যন্ত যারা ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই সুস্থ হয়েছে। এখন সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৮৬০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সাধীন আছে।
বিভিন্ন কারণে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি, দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়া, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের লক্ষণ ও ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন, আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ও মৃত্যু ইত্যাদি নানা কারণে এ বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে ঠাঁই করে নিচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষ যেন অপেক্ষাকৃত কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের পরীক্ষা করাতে পারে সেজন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা এবং বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপেক্ষাকৃত কম খরচে রক্ত পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে। দ্রুততম সময়ে বিদেশ থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট আমদানি করা হয়। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি হাসপাতালে ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়। মেডিসিনসহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ডেঙ্গুর চিকিত্সায় জাতীয় গাইডলাইন প্রণীত হয়। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতরে তথ্য জানানোর জন্য হটলাইন খোলা হয়। ডেঙ্গু সন্দেহে মৃত রোগীদের মৃত্যু কারণ নিশ্চিত করতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ডেথ রিভিউ কমিটি গঠন করে ওইসব রোগীর মৃত্যু রিভিউ করা হয়। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিত্সা গাইডলাইন মেনে সঠিকভাবে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হয়।
ডেঙ্গুতে দুই জন মারা গেছেন
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে বাদশা মোল্লা (৫৬) নামে এক ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। বাদশা মোল্লা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু উপজেলার সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা। এদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল শিল্পী বেগম (৪৫) নামে নামে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। শিল্পী বেগম জেলার তেরখাদা উপজেলার আঠালিয়া গ্রামের সাহেব আলীর স্ত্রী।
বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। তবে চিকিত্সকরা বলছেন, এডিস প্রতিরোধে জোর তত্পরতা ও আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসায় এবার সেই শঙ্কা নেই। অবশ্য ডেঙ্গুকে মাসের ফ্রেমে বাঁধতে নারাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মতে, সহায়ক পরিবেশ পেলে যে কোনো সময় মাথাচাড়া দিতে পারে এডিস। তাই এডিস প্রতিরোধে বছরজুড়েই সমন্বিত ও পরিকল্পিত উদ্যোগের পরামর্শ তাদের।
ইত্তেফাক/এমআই