ভোগাই নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

ঝুঁকির মুখে শহররক্ষা বাঁধ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা

যতযত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের হুমকিতে আছে ভোগাই নদীর তীরবর্তী নালিতাবাড়ীর মানুষ। ইতিমধ্যে নদীর বিভিন্ন অংশে মাত্রাতিরিক্ত গভীর হওয়ায় তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে খুঁড়ে বোরিং পদ্ধতিতে ভূ-গর্ভস্থ খনিজসম্পদ সাদাবালু উত্তোলন করায় নদীর প্রকৃতি এবং ব্রিজগুলো পড়েছে ঝুঁকিতে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত্ পাহাড়ি বালুর স্তর পড়ে ভোগাই নদীর অধিকাংশ এলাকায় নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১০ সালে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে নদীর বড়ো বড়ো চরগুলোকে শ্যালোচালিত ড্রেজার দিয়ে খনন করা শুরু হয়। ঐ খননকৃত বালু নির্মাণকাজে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে বুয়েটে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় বালু নির্মাণ উপযোগী হওয়ায় ভোগাই নদীর লালবালু অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত হয়। এরপর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন শুরু। কিন্তু তখন বছরের নির্দিষ্ট সময় প্রকৃতি রক্ষায় বালু উত্তোলন প্রশাসনিকভাবে বন্ধ রাখা হতো। চলতি বৈশাখ মাসে শহরের ছিটপাড়া (তারাগঞ্জ পাইলট স্কুল এলাকা) মৌজা থেকে উপজেলার ফুলপুর মৌজা (নয়াবিল-ঘাকপাড়া খেয়াঘাট) পর্যন্ত প্রায় ২৭ একর পরিমাণ বালু মহালটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় নালিতাবাড়ীর মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নেয়।

তারা রয়েলিটির মাধ্যমে ভোগাইজুড়ে বালু উত্তোলন মালিকদের অনুমোদন দেওয়া শুরু করে। ফলে যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে সম্প্রতি নালিতাবাড়ী শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। এমতাবস্থায় বাঁধ রক্ষায় শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পানি সম্পদমন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শহরের ছিটপাড়া ও গড়কান্দা মৌজায় প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। এতে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ বন্ধ হওয়া তফসিলভুক্ত এলাকার পরিবর্তে নতুন এলাকা বালু মহালের অন্তর্ভুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায়ই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। খুব শিগগির আরো কঠোরভাবে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’