‘মেম্বার ঘর দেন না, টাকাও ফেরত দেন না’

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের মেম্বার মো. বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের অধীনে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন পার হলেও ঘর প্রদান না করায় ও টাকা ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের জোকা গ্রামের মো. রুবেল হোসেন, জাহানারা বেগম, মো. আতাব আলীসহ আরো লোকজন প্রায় দেড় বছর আগে ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. বাচ্চু মিয়া সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা নেন। দীর্ঘ দেড় বছর পার হলেও কোনো ঘর দিতে পারেননি মেম্বার। টাকা ফেরত চাইলে ‘ঘর পাবে’ বলে নানা টালবাহানা করে ঘোরাতে থাকে তাদের। পরে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া একই গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার মায়ের নামে বিধবা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ঐ মেম্বার ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন অথচ আজ পর্যন্ত কার্ড দেননি বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া।

অভিযোগকারী রুবেল হোসেন, আতাব আলী ও জাহানারা বেগম জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র লোক। তাদের ১০ শতাংশের কম জমি রয়েছে কিন্তু থাকার কোনো ঘর নাই। তাই সরকারি ঘর দেওয়ার কথা শুনে ইউপি মেম্বার বাচ্চু মিয়ার কাছে গেলে মেম্বার ঘর দিতে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি মোতাবেক আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ করে এনে মেম্বারের হাতে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও মেম্বার ঘরও দেন না, টাকাও ফেরত দেন না। এই বাচ্চু মেম্বার মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এক বছর আগে গাঁজাসহ তিনি ঘিওর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন। তবে অভিযুক্ত মেম্বার মো. বাচ্চু মিয়া টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সরকারি ঘর ও বিধবা কার্ডের জন্যে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেননি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার জানান, এ বিষয়ে ৪টি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিয়া সুলতানা কেয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পেলে মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।