ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীয়তনগর ফিরোজ মিয়ার কলোনী থেকে মোছা. তানজিনা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে এক সন্তানের জননী নিহত তানজিনা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। নিহত তানজিনা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার শিবপুর ডুপিবাড়ি এলাকার মো. রেনু মিয়ার মেয়ে এবং একই এলাকার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক মো. সোহাগ মিয়ার স্ত্রী। কাজের সূত্রে ওই কলোনীতে তারা পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন। নিহতের গলায় ও পিঠে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার রাতে তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ স্বজনদের। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর পলাতক থাকলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি মো. রুবিনা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫-৬ বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে এলাকার মো. ফারুক মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক মো. সোহাগ মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। মেয়ের শ্বশুর ফারুক আগে থেকে আশুগঞ্জে ধানের গালায় শ্রমিক এবং তার ছেলে নিহত তানজিনার স্বামী সোহাগ মিয়া আশুগঞ্জে সিএনজি চালানোর কারণে ভাড়া বাসা নিয়ে আশুগঞ্জে থাকতো। তাই বিয়ের পর তানজিনাও স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আশুগঞ্জে চলে আসে। একই বাসায় বসবাস শুরু করে। তাদের প্রায় এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় তানজিনার বাবা জামাতা সোহাগকে বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও বন্দোবস্তি জমিবাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করে। তিনি জানান, বিয়ের পর বেশ কিছুদিন ভালোভাবে চলাফেরা করলেও গত প্রায় এক বছর ধরে সোহাগের কিছু পরির্তন ঘটে এবং তার মেয়েকে মারধর করতে শুরু করে। ২-৩ মাস আগে বন্দোবস্তি জমিতে লগ্নিকৃত ৫০ হাজার টাকাও উঠিয়ে নিয়ে আসে।
আরো পড়ুনঃ প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে লিড পেল ভারত
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ভক্ত চন্দ্র দত্ত বলেন, সুরতহাল রির্পোটে নিহতের গলায় ও ঘাড়ের পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্রবার রাতে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।লাশ ময়নাতন্তের জন্য জেলাসদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পুলিশ আসার আগেই স্বামী ও শ্বশুর পালিয়ে যান।
এব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/কেকে