স্বপ্ন যাদের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি-১’ ইউনিট

গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবিতে) দেশ-বিদেশের অনেক সুনাম বয়ে আনে। এখানে চান্স পাওয়াটা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই লালিত স্বপ্ন। আর আপনার স্বপ্ন যদি থাকে শাবির ‘বি-১’ ইউনিট। তাহলে এ স্বল্প সময়ে আপনাকে কী করতে হবে এ নিয়ে লিখেছেন - জি এম ইমরান হোসেন

 

আসন সংখ্যা

শাবিতে ভর্তিচ্ছুরা ‘এ-১’, বি-১’ ও ‘বি-২’ এই তিন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে। তবে ‘বি-১’ ইউনিটের মোট আসন সংখ্যা ৯২০। এই ইউনিটের সাবজেক্ট ও আসন সংখ্যা হলো, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ (৬৫), রসায়ন বিভাগ (৬৫), গণিত বিভাগ (৮০), পরিসংখ্যান বিভাগ (৮০), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (১০০), ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (৫০), ইন্ডাষ্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (৫০), সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (৫০), ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (৫০), ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং টি টেকনোলজি (৪০), পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (৩৫), জিওগ্রাফি অ্যান্ড ইকোলজি (৪০), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (৩৫), সমুদ্র বিজ্ঞান (৩০), সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং (৩০), জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োটেকনোলজি (৩৫), বায়োক্যামেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (৩০), ফরেষ্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (৫৫)।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

 

স্বল্প সময়ে যা যা করতে হবে:

স্বপ্ন যাদের ‘বি-১’ ইউনিট ! তারা এ স্বল্প সময়ে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন এ বিষয়ে  ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ৩৮তম স্থানকারী ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম স্থান অধিকারী মেহেদী হাসান জীবন তার অভিজ্ঞতায় বলেন।

 যেকোনো পরীক্ষায় ভালো করার জন্য সবচেয়ে জরুরী হলো পরীক্ষার সিলেবাস আর বিগত বছরের প্রশ্ন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা। শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার আলাদা কোনো সিলেবাস নেই। তবে এরকম বলা যায় এইচএসসি লেভেলের সিলেবাসই হলো ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস। কাজেই সর্বপ্রথম কাজ হলো এইচএসসি লেভেলের সিলেবাসের কোন টপিকে যদি কোনো রকম সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সেই টপিকের থিওরি পড়ে ফেলা এবং টপিক  ভালোভাবে শেষ করা। এইচএসসিতে তুমি যে সকল টেক্সটবুক পড়েছিলে, তার উপর যথেষ্ট দখল আনতে হবে। টেক্সটবুকে যেসকল গাণিতিক/থিওরিটিক্যাল প্রশ্ন আছে সবগুলো সমাধান করে ফেলতে হবে।

শাবির প্রশ্ন যে খুব কঠিন হয় তা কিন্তু না। প্রশ্নগুলো আমাদের সিলেবাসেরই কোনো না কোনো টপিকের প্রশ্ন। টেক্সটবুকের পাশাপাশি কিন্তু প্রশ্নব্যাংক ও পড়া লাগবে। এর পরের কাজ হলো নিজেকে যাচাই করা ? অনেকে যেটা করে, সেটা হলো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেয়। এটার একটা সুবিধা হলো নিজেকে অনেকের মাঝে যাচাই করার ভালো সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ যদি চায় কোচিংয়ে ভর্তি না হতে, তাহলে অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্ম আছে যেখানে ভর্তি পরীক্ষার আদলে বিষয়ভিত্তিক/টপিকভিত্তিক মডেল টেস্ট হয়। সেগুলোও দেয়া যায়।

সারসংক্ষেপ হলো তুমি প্রস্তুতি নেবে টেক্সটবই এবং প্রশ্নব্যাংকভিত্তিক, আর তোমার দুর্বলতা খুঁজে পেতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেবে।

 

কেন পড়বেন শাবিতে:

স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন সবার উপরে শাবি শিক্ষার্থীরা। শাবিই দেশের প্রথম এবং অনন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে উদ্ভাবিত অধিকাংশ প্রযুক্তির উদ্ভাবক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির কার্যক্রম চালু, পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তারবিহীন নেটওয়ার্ক ওয়াইফাই সুবিধা চালু করা, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা, নিজস্ব ডোমেইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ই-মেইল সার্ভিস চালু, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান নির্ণয়ের ট্রাকিং ডিভাইস উদ্ভাবন, দেশে উদ্ভাবিত প্রথম উন্নতমানের ড্রোন, সেমিস্টার পদ্ধতি, অনলাইনে লেনদেনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ও কোর্স ফি জমা দেয়ার সুবিধা, সার্চ ইঞ্জিন প্রভৃতিসহ অনেক কিছুরই  উদ্ভাবন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এছাড়া দেশের প্রথম ও একমাত্র পুর ও পরিবেশ কৌশল, টি টেকনোলজি, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শুরুটা হয় শাবিপ্রবির হাত ধরেই। এখানকার বিবিএতে আইবিএ -এর আদলে পড়ানো হয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ও একমাত্র সেকেন্ড মেজর কোর্স পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এখানেই। যোগ্যতা সম্পন্ন যে কেউ বি ইউনিটের যে কোনো বিভাগে পড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স করতে পারবে। এ পদ্ধতি বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেমন উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চালু থাকলেও বাংলাদেশে শুধু শাবিই অনুসরণ করে। এছাড়া বিভিন্ন অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা ব্যতীত এখানে যে কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা ‘র্যাগিং’ এবং ‘সেশন জটে’র ক্ষেত্রে শাবি জিরো টলারেন্স।