নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক,

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় , চাঁদপুর।

 

হাওর এলাকায় প্রায়শ গোলমাল , ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। এলাকার মানুষের মধ্যে কোন সদ্ভাব নেই। এগুলো দেখে এ ধরনের কাজ বন্ধ করতে এলাকার কিছু যুবক সম্মিলিতভাবে একটি সংঘ গঠন করে । এলাকার যেখানে অশান্তি সৃষ্টি হয় সংঘটি সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করে এবং এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করে। বর্তমানে ঐ এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায়ও শান্তির দূত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

 

ক) বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য ?                                                                                                                                                                                       খ) নারীর প্রতি বৈষম্যের ক্ষেত্রে ‘ সিডিও ’ সনদের ভূমিকা বর্ণনা করো।                                                                                                                                                 গ) হাওর এলাকায় গঠিত সংঘটি বিশ্বমানের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে ? ব্যাখ্যা কর।                                                                                   অথবা হাওর এলাকায় গঠিত সংঘটির গঠনের প্রেক্ষাপট পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।                                                                                                                            ঘ) বিশ্বমানের উক্ত সংগঠনটির কাজের মূল্যায়ন করো।

ক) উত্তর : বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য।

 খ) উত্তর : নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপের জন্য ১৯৭৯ সালে সিডিও সনদ স্বাক্ষরিত হয়। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ৩০টি ধারা সম্মিলিত সমতা নীতির ভিত্তিতে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়। এ সনদ দ্বারা নারীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সনদে নারীর মানবাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই সনদের প্রতি সমর্থন এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ ‘ নারী দিবস ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তাই বলা যায় , নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সিডিও সনদ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

গ) উত্তর : উদ্দীপকে হাওর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করছে। যুদ্ধ কখনও জাতিতে জাতিতে সংকট নিরসনের পথ হতে পারে না। যুদ্ধ ডেকে আনে ভয়ংকর ধ্বংসলীলা ও মানবজাতির জন্য অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও অশান্তি। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডবলীলা মানবজাতির জন্য বয়ে আনে  চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের তত্কালীন নেতৃবৃন্দ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে তেহরানে ও মস্কোতে ৪টি প্রধান শক্তির মধ্যে সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলন ব্রিটেন , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিবৃন্দ জাতিসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অবশেষে ১৯৪৫ সালের  ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে।

বিশ্বের স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ এর সদস্য। পাঁচটি প্রধান অঙ্গ এবং একটি সেক্রেটারিয়েট নিয়ে এটি গঠিত। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তর অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি  ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ঘ) উত্তর : বিশ্বমানের উক্ত সংগঠনটি বলতে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম সংগঠন জাতিসংঘকে বোঝানো হয়েছে। যার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৪৫ সালের  ২৪ অক্টোবর। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি  ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বিরোাধের নিষ্পত্তি করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। প্রত্যেক জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি ও তা সমুন্নত রাখতে এবং  শান্তি ভঙ্গের হুমকি , আক্রমণাত্মক প্রবণতা ও কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রস্তুত এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে  জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য , শিক্ষা , উন্নয়ন এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস , দারিদ্র বিমোচন , সংক্রামক ব্যাধি নির্মূল , নারী অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাফল্য উল্লেখ করার মতো। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দূরীকরণে জাতিসংঘের ব্যর্থতাও আছে অনেক। ধনী-দরিদ্রের বর্ধিত বৈষম্য কমাতে জাতিসংঘের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে জাতিসংঘের ব্যর্থতা লজ্জাকর। কিন্তু তারপরও বলা যায় , জাতিসংঘ অনেক ক্ষেত্রেই সফল একটি বিশ্বসংঘ।