পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে সমঝোতার কাছাকাছি ইরান ও ফ্রান্স

রয়টার্স

ইরান গত সোমবার জানিয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁনের সাথে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির অলোচনার পর পরমাণু চুক্তি নিয়ে দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরানের মুখপাত্র আলি রাবেই বলেন, সৌভাগ্যবশত অনেকগুলো বিষয়ে ইরান ও ফ্রান্স একমত হয়েছে। ইরানের পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে ইউরোপের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি এসব কথা বলেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলেননি। পরমাণু চুক্তি ভেঙে দিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরানের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ইউরোপের দেশগুলো।    

ইরান ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তির যে অংশ লঙ্ঘন করেছে, তা তেমন গুরুতর নয় এবং তা আবার সংশোধনযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান। ফেডেরিকা মঘেরিনি বলেন, ‘ইরানকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি তারা যাতে তাদের পদক্ষেপের সংশোধন করে আবার আগের মতোই চুক্তির শর্ত অনুসরণ করে।’ চুক্তি ভেঙে গত মে মাস থেকে ইরান ইউরেনিয়াম উত্পাদন বাড়িয়েছে, যা পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে এবং সম্ভবত পারমাণবিক বোমা বানাতেও ব্যবহূত হয়। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে একতরফাভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাবে এমন পদক্ষেপ নেয় তেহরান। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনি এই চুক্তি লঙ্ঘন করল ইরান।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিরিয়ায় তেল পাঠানোর অভিযোগে ইরানের একটি তেল ট্যাংকার ব্রিটেন আটক করার পর সংকট তৈরি হয়। যদিও এই অভিযোগ নাকচ করেছে ইরান। পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, নিজেদের ওপর আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের  নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।