চোটের কাছে জকোভিচের হার
স্পোর্টস ডেস্ক
রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি ইউএস ওপেন জেতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার সুযোগ ছিল শিরোপাধারী নোভাক জকোভিচের। তবে চোটের কারণে শিরোপা রক্ষার বহু আগেই হার মানলেন টেনিস র্যাংকিংয়ের সেরা খেলোয়াড়টি। গতকাল সোমবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে স্তানিসলাস ওয়াওরিঙ্কার বিপক্ষে ২-০ গেমে পিছিয়ে থাকার সময় চোটের কারণে খেলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
এদিকে উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউএস ওপেন জেতা রজার ফেদেরার ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন। রবিবার রাতে ডেভিড গফিনকে মাত্র ৭৮ মিনিট দীর্ঘ ম্যাচে সরাসরি সেটে হারিয়েছেন তিনি।
চলতি ইউএস ওপেনের শুরু থেকেই কাঁধের চোট বাগড়া দিচ্ছিল জকোভিচের পারফরম্যান্সে। দ্বিতীয় রাউন্ডে হুয়ান লন্দেরোর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে তো দু’বার চিকিত্সকের শরণাপন্নও হতে হয়েছিল। সে যাত্রায় বেঁচে ফিরলেও এবার রেহাই পেলেন না জকোভিচ।
দারুণ ছন্দে থাকা সুইস প্রতিপক্ষ ওয়াওরিঙ্কা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। প্রথম দুই সেট জিতেছিলেন ৬-৪, ৭-৫ গেমে। তৃতীয় সেটে জকোভিচ যখন ২-১ গেমে পিছিয়ে তখন ডাবল ফল্ট করেন। কাঁধের চোটের কারণে পরে ম্যাচ থেকেই নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
তার এমন সিদ্ধান্ত দর্শকদের পছন্দ হয়নি মোটেও। দর্শকদের দুয়ো হজমের পর তাদের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে জকোভিচ বলেন, ‘দর্শকদের জন্য আমি দুঃখিত। তারা পুরো ম্যাচ দেখতেই এখানে এসেছিলেন কিন্তু সেটা হয়নি।’
জকোভিচ জানালেন গেল কিছুদিনে ব্যথা বাড়ছে ক্রমেই। তিনি বলেন, ‘এটা হতাশার। অবশ্যই চোটের কারণে অবসর নেওয়ার ব্যাপারটা পীড়াদায়ক। কিছু দিন ব্যথা খুব বেশি থাকে আবার কিছু দিন খুব কম। আমি ব্যথানাশক নিচ্ছিলাম কিন্তু কিছুদিন এটা কাজ করে, কিছুদিন সেটা করে না।’
জকোভিচের বিদায়ের কিছু সময় আগেই ১৫ তম বাছাই ডেভিড গফিনের বিপক্ষে ৬-২, ৬-২, ৬-০ গেমের সহজ এক জয় পান ফেদেরার। মাত্র ৭৮ মিনিট দীর্ঘ এ সরাসরি সেটের জয় তাকে তুলে দিয়েছে প্রতিযোগিতাটির কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ আটে আজ মঙ্গলবার তার প্রতিপক্ষ বুলগেরিয় খেলোয়াড় ডেভিড গফিন।
চলতি ইউএস ওপেনে ম্যাচের শুরুর দিকে বেশ নড়বড়ে থাকেন ফেদেরার। সরাসরি সেটে জয় পেলেও এই ম্যাচেও শুরু একটি গেমে হেরে বসেছিলেন তিনি। ম্যাচের পর প্রতিক্রিয়ায় ফেডেক্স বলেন, ‘এটা দারুণ ছিল। ডেভিডও তার সেরা ছন্দে ছিল না, তবু লড়াই করে যাচ্ছিল। শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিলাম আমি, তাই আমাকে ফিরতে হতোই।’
ফেদেরার যোগ করেন তার ফিরে আসাই গফিনকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে, ‘কিন্তু যখন আবার আমি একটা ব্রেক এগিয়ে গিয়েছিলাম তখন আমার মনে হচ্ছিল সে আর আগের মতো খেলছে না! নিজের খেলার মান নিয়ে আমি দারুণ খুশি।’