স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী খুন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

গত রবিবার সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সেগুনবাগান এলাকায় গত রবিবার সন্ধ্যায় শেলী আকতার (৩৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রবাসী স্বামীসহ চার জনকে আসামি করে গতকাল সোমবার সকালে রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের উত্তর পোমরা মৌলভিপাড়া গ্রামের রফিকুল কদরের মেয়ে এবং মালিরহাট এলাকার মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী।

বিদেশে স্বামীর নিকট কিছু খাদ্যসামগ্রী পাঠাতে গৃহপরিচারিকা লাকী আকতারকে সঙ্গে করে নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের মধ্যপ্রাচ্যগামী জনৈক প্রবাসীর বাড়িতে যাওয়ার পথে রবিবার সকালে সেগুনবাগান নিশ্চিন্তাপুর সড়কে ছিনতাইকারীরা তাকে অটোরিকশা থেকে অপহরণ করে। ছিনতাইকারীরা সড়কের পাশের খাদের জঙ্গলে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

গৃহপরিচারিকা লাকী আকতার জানান, নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীর বাড়ি থেকে বিকেল ৩টায় দুই জন লোকসহ তাদের জন্য চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান স্টেশনে একটি সিএনজি অটোরিকশা পাঠায়। তারা সে অটোরিকশায় যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই জন মুখোশপরা লোক গতিরোধ করে তাদেরকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে সড়কের পাশে খাদের জঙ্গলে নিয়ে যায় । সেখানে আমাকে (লাকী আকতার) বেঁধে রেখে শেলী আকতারকে গলাকেটে হত্যা করে। লাকী আকতারের চিত্কারে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সংবাদ পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ গত রবিবার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) প্রেরণ করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভুঁইয়া জানান, নিশ্চিন্তাপুর যাওয়ার সময় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে থাকা লাকী আকতার নামের একজন কাজের মেয়েকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাসহ হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তত্পরতা চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে নিহত শেলী আকতারের ভাই কাজী ফরিদ বাদী হয়ে স্বামী শাহ আলমসহ চার জনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।