ফেরত পেল দালাল চক্রের হাতিয়ে নেওয়া টাকাও!

বিদ্যুত্ পেল চরবংশীবাসী

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

৪০ বছর পর বিদ্যুত্ পেয়ে আনন্দিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের চরবংশী ইউপির উত্তর চরবংশী গ্রামবাসী। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে গ্রাহকরা ফেরত পেলেন বিদ্যুত্ দেওয়ার নামে দালাল চক্রের হাতিয়ে নেওয়া অতিরিক্ত টাকাও।

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত্’—স্লোগানটি সত্য প্রমাণ করলেন পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তারা। গত সোমবার উত্তর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৈঠকের মাধ্যমে তারা এ টাকা ফেরত দেন। এ সময় ৯২ জন গ্রাহককে অতিরিক্ত সব টাকা ফেরত দেওয়া হয় এবং ঐ সদস্যদের সরকারি ফি নিয়ে তাত্ক্ষণিক বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান করা হয়।

বৈঠকে রায়পুর পল্লীবিদ্যুতের রায়পুর শাখার ডিজিএম শেখ মানোয়ার মোরশেদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির জিএম শাহজাহান কবীর, উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মো. হোসেন, ডিজিএম (কারিগরি) খান মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, ফেনী প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী ও জেলা সমিতি বোর্ডের সভাপতি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে উত্তর চরবংশী ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯২ জন গ্রাহক নতুন বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য প্রতি গ্রাহক ১ হাজার ৫০০ টাকা করে সাবেক মেম্বার মো. টিটুর কাছে জমা দিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ সংযোগের সব কাজ সম্পূর্ণ করার পর বিভিন্নভাবে জানতে পারেন কেউ কোনো ‘বিনামূল্যে’ সংযোগ পায়নি। পরে কর্তৃপক্ষ মিটার সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে চলতি মাসে তদন্ত করে বিষয়টি প্রমাণ হলে গত রবিবার সাবেক সেই মেম্বার ও পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদার আলাউদ্দিন, জহির ও আমজাদকে রায়পুর পল্লীবিদ্যুত্ অফিসে ডেকে নিয়ে গ্রাহকের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার আনুষ্ঠানিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সরকার নির্ধারিত ৪৫০ টাকা রেখে বাকি সব অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দিনমজুর মো. আলী, নুরুল আমিন, নূরজাহান বেগমসহ কয়েকজন গ্রাহক জানান, টাকা ছাড়া বিদ্যুত্লাইন সংযোগ দেওয়া হয় তা আমরা আগে জানতাম না। এ লাইন সংযোগের জন্য সাবেক মেম্বারকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়েছিলাম। এখন আমাদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত এবং বিদ্যুত্লাইন সংযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।

লক্ষ্মীপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির জিএম শাহজাহান কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ঘরে ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাই বিদ্যুত্ দেওয়ার নামে যারা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিল তাদের মাধ্যমে সেই টাকা আনুষ্ঠানিক ফেরত দেওয়া হয়েছে।