অবশেষে জামিনে মুক্ত মিন্নি

৪৮ দিন জেলহাজতে থাকার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। হাইকোর্টের জামিন সংক্রান্ত রায়ের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে তাকে মুক্তি দেয় বরগুনা জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় মিন্নির             বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘মিন্নি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার। উচ্চআদালত জামিন দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতেও ন্যায়বিচার পাবো।’

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঐ হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সমালোচনার ঝড় উঠে সারাদেশে। নিহতের বাবা ঐ দিনই মামলা করেন। মামলায় মিন্নিকে এক নম্বর সাক্ষী করা হয়। কিন্তু মামলাটি তদন্তাধীন থাকাবস্থায় ১৬ জুলাই সকালে তাকে পুলিশ লাইনে ডেকে নেওয়া হয়। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাকে আসামি করা হয়। পরদিন নেওয়া হয় আদালতে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ১৯ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। এরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে নিম্নআদালতে জামিন চাইলে আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে। জামিন চান হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মিন্নির রিমান্ড শুনানির সময় আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না পাওয়া, দীর্ঘসময় স্থানীয় পুলিশ লাইনে আটক রাখা, আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগেই বরগুনা পুলিশ সুপারের বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রদান এবং সর্বোপরি একজন নারী এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করে। আদালত বলে, জামিনে মুক্তির পর মিন্নি তার পিতার জিম্মায় থাকবেন এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ঐ আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা দূর হয়।

গতকাল বেলা ১২টার দিকে মিন্নির জামিন সংক্রান্ত হাইকোর্টের নথি বরগুনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৌঁছায়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বরগুনার মুখ্য বিচারিক হাকিম এম জাহিদ হাসান নথি গ্রহণ করে মিন্নিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। আদেশের কপি নিয়ে গেলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিন্নিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানান তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এ সময় মিন্নির আত্মীয়-স্বজন কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন। কারাফটক থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাইঠা এলাকায় নিজবাড়িতে যান মিন্নি। তার ছোটো ভাই মো. কাফী বলেন, অনেকদিন পর আমার বোনকে কাছে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। মাহবুবুল বারী বলেন, আইনি লড়াই করে তাকে জামিনে মুক্ত করতে পেরে ভালো লাগছে।

তবে রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এই মিন্নি। মামলা দায়েরের সময় বুঝতে না পারলেও পরে বিষয়টি জানতে পারি। মিন্নি জামিনে মুক্ত থাকলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারে।

প্রসঙ্গত, এই হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুইটি আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তদন্ত কর্মকর্তা। এরমধ্যে দণ্ডবিধিতে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে মিন্নিসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে শিশু আইনে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।