ব্রিটেনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন বরিস জনসন

ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার টোরি দলের এমপি ফিলিপ লি ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মাত্র একটি আসনে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। এছাড়া ডেভিড গৌক, ফিলিপ হ্যামন্ড, গ্রেক ক্ল্যার্ক এবং ক্যারোলিন নোয়াকস চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এর ফলে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ব্রিটেনে একটি সংখ্যালঘু সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। ফলে আগামী ১৪ অক্টোবর দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা বেড়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর গতকাল পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন বসে। বিরোধীরা আশা করছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে তাদের প্রস্তাবটি পাস হবে। খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও ডয়চেভেলের

বিরোধী এমপিরা গতকাল ব্রেক্সিট ইস্যুতে জরুরি বিতর্কের প্রস্তাব দিলে হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো অনুমতি দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তার বক্তব্যে বলেন, পার্লামেন্টে তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হলে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিসকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করতে দেওয়া হবে না। গতকাল রাত একটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছিল।

পার্লামেন্টে বিরোধী পক্ষ চলতি সপ্তাহেই সম্মিলিতভাবে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আওতায় ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ইইউর সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ঐকমত্য সম্ভব না হলে ব্রেক্সিটের সময়সীমা আরো ৩ মাস পেছানো হবে। উল্লেখ্য, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ব্রেক্সিট নিয়ে বোঝাপড়ার বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যাবে। আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বোঝাপড়া নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সন্ধ্যায় সেই লক্ষ্যে পার্লামেন্টে প্রাথমিক ভোটে বিরোধীদের জয় হলে প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচনের কথা জানিয়েছেন। কারণ এই ভোটাভুটির পরেই  লেবার পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।