বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতদের শনাক্তে কমিশন গঠনের দাবি ১৪ দলের

অবিলম্বে জাতীয় কমিশন গঠন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার নেপথ্য খলনায়কদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, এটা সময়ের দাবি, জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা।

খুনিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে :নাসিম

১৪ দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে দিতে আগামী অক্টোবর মাসে ধারাবাহিকভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। একই সঙ্গে বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সংগঠিত করা হবে। তিনি ১৪ দলের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর, যেসব দেশে খুনিরা পালিয়ে আছে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের সংগঠিত করে ঐসব দেশকে চাপ দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে বলেন, খন্দকার মোশতাক আহমেদসহ জাতির পিতার সকল হত্যাকারীর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। যাতে তারা এই সম্পদ ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবতার কথা বলেন, তারা কীভাবে খুনিদের আশ্রয় দেন? যে দেশে আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার কিংদের জন্ম সে দেশে খুনিরা আশ্রয় পায় কীভাবে?

খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে :আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। তিনি বলেন, কানাডা নুর চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি। আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কানাডার সঙ্গে আলোচনা করছি। আইনি এবং কূটনৈতিক তত্পরতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। একটু সময় হয়তো লাগবে, তবে কানাডা সরকার তাকে ফেরত দেবে। রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যপারে আগের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেড়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনের নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন করার ব্যাপারে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদে এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন :পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি দিয়েছেন। নুর চৌধুরী কানাডায় আছে। আমি কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, কোর্ট তো তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি, তাকে ফিরিয়ে দিন। তিনি বলেছেন আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যান।’ নুর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আয়োজনের আগেই তাদের দণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ন্যায়বিচারের স্বার্থে হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দিন :মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত পলাতক খুনিদের ফেরত দিতে হবে। তিনি সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিদেশে মাটিতে মুক্ত জীবনযাপনের সুযোগ না দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা অন্য দেশের গণতন্ত্র মাপামাপি করে, তারা খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, জেপির সহসাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।