ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রাতে পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য ছিনতাই করে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত চারটি অংশে ছিনতাইকারীদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মেঘনা শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত আরো একটি চক্র জড়িত। ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট আমদানি-রপ্তানির শিল্পপণ্য বোঝাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যান। এ নিয়ে উদ্বেগে আছেন পণ্য আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি মেঘনা শিল্পাঞ্চল, মেঘনা ইকোনমিক জোন, আমান ইকোনমিক জোনের বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি পণ্য ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে। হেরিটেজ পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানিকৃত কাঁচামাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত ২৩ আগস্ট দুটি কাভার্ডভ্যান ২৫ টন পলিথিন কাঁচামাল নিয়ে মেঘনা ঘাট ফ্যাক্টরিতে আসে। এখানে দুটি কাভার্ডভ্যানের মধ্যে একটি গাড়িতে হিসাব করে পাঁচ টন কাঁচামাল কম পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাভার্ডভ্যানের চালক ও হেলপার এ পণ্য সরিয়ে ফেলার সঙ্গে জড়িত। গত মাসে আমান ইকোনমিক জোনের আমান সিমেন্টের একটি সিমেন্টভর্তি ট্রাক সোনারগাঁওয়ের মনারবাগ এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে মেঘনা গ্রুপের পণ্যবাহী যানবাহন। চৈতি কম্পোজিটের কয়েক কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম পোর্টে যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে চালক ও হেলপারদের সহযোগিতায় পণ্যভর্তি কার্টন সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিক ও বিজিএমইএ কর্মকর্তারা। ফলে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল ও বিদেশে পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
হেরিটেজ পলিমার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, চালক হেলপারদের সহায়তায় মহাসড়কে এসব পণ্য ছিনতাই হচ্ছে। আমাদের পণ্য হারানোর বিষয়ে তত্ক্ষণিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি আমাদের জানায়, কাভার্ডভ্যানের চালক ও হেলপারকে আটক করলেই মাল উদ্ধার হবে। তারা চালক ও হেলপারকে আটকে রাখতে অনুরোধ করে। আমাদের ফ্যাক্টরির লোকজন ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কথা অনুযায়ী তাদের আটক করে। তিনি বলেন, তাদের আটক করার পর চালক ও হেলপারও মোবাইলে কারো কারো সঙ্গে কথা বলে পণ্য ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু ছিনতাই চক্রের লোকজন উলটো সোনারগাঁও থানায় অপহরণ মামলা করে। পুলিশও মাল উদ্ধার না করে আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় অপহরণ মামলা করতে সহযোগিতা করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।
চৈতি গ্রুপের ডিজিএম বদরুল আলম জানান, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের কোম্পানির পণ্য চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। ঐ মামলায় পণ্য উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতার হলেও দীর্ঘ ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে না পুলিশ।
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে ছিনতাই ঠেকাতে টহল জোরদার করা হয়েছে। তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার চার্জশিট দেওয়ার ক্ষেত্রে সব আসামি গ্রেফতার বা মালপত্র উদ্ধার না হওয়ায় পুলিশ একটু বিলম্ব করে।
বিজিএমইএ কর্মকর্তা মনসুর খালেদ জানান, ছিনতাইয়ের ফলে বায়ারদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
গাজীপুর রেঞ্জের হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই অনেক কমে গেছে। ছিনতাই ঠেকাতে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক তত্পর। ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালক ও হেলপার বেশি জড়িত থাকে।