বৈষম্য দূর করতে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে

নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সকলকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা, প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কোথাও নেই। ফলে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদনে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে সেগুনবাগিচা মহিলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদের বাস্তবায়ন: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অজয় দাশগুপ্ত ও দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। প্রস্তাব পাঠ করেন মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সদস্য ফেরদৌস জাহান রত্না। মহিলা পরিষদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রেখা সাহা।

আয়শা খানম বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও জেন্ডার সমতা অর্জনের জন্য নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সিডও সনদ একটি বড়ো টুল হিসেবে কাজ করে। আমাদের যে অর্জন আছে তাকে টেকসই করতে হলে আমাদের মনিটরিং করতে হবে। প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এখানে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আমরা লক্ষ্য করেছি। তিনি সিডও সনদের ২ নম্বর ধারা অনুমোদন নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী সিডও কমিটির সভার পূর্বেই ২ নম্বর ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি জানান। অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ধর্মান্ধতার কারণে নারীরা বাইরে আসতে পারছে না, সমাজে প্রচলিত জেন্ডার বৈষম্যমূলক রীতিনীতির কারণে ছেলেমেয়েদের চলাফেরায় এখনো বৈষম্য বিরাজমান। নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে হলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে, সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সোহরাব হাসান বলেন, শিক্ষা, প্রশাসন ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কোথাও নেই। রাষ্ট্র নির্বাহী একজন নারী হলেও রাষ্ট্র নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে নারী উন্নয়ন নীতি প্রণীত হলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আজ ৩৪ বছরেও সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন সরকার করেনি। আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস, রেখা চৌধুরী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, হান্নানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি শাখার পরিচালক জনা গোস্বামী।