শেষ হলো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ৩ দিনের সিলেট সফর

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর সিলেট সফর করেছেন।এ সফরে তিনি অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সেবা খাতে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন।

জানা যায়, সফরকালে রাষ্ট্রদূত মিলার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম এবং মেয়র আরিফুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।তারা এ সময় ব্যবসা ক্ষেত্রে বিনিয়োগসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য ক্ষেত্র গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সেস এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ম প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের (পিসিবি) একটি যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়া ‘টাইগার শার্ক ৩৭’ প্রত্যক্ষ করেন।

এ অনুশীলনটি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশীজনদের অংশগ্রহণে সংকট মোকাবিলা ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ক চলমান মহড়ার অংশ।যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট কাউন্টার-টেররিস্ট ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাডভাইজারি টিম এর সদস্যবৃন্দ এবং ১ম পিসিবি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসিন মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন।

শাহজালালের (র) মাজার পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সিলেটে অবস্থানকালে রাষ্ট্রদূত মিলার ইউএসএআইডি’র ‘সুখীজীবন’ প্রকল্পসহ কয়েকটি কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। ‘সুখীজীবন’ একটি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ভিত্তিক (পিপিপি) কর্মসূচি যা স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ খুব সীমিত বা আদৌ কোনো সুযোগ নেই এমন এলাকা গুলোর বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।তিনি ‘ব্লুস্টার’ নামে একটি ওষুধের দোকানও পরিদর্শন করেন, যেটি সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) নেটওয়ার্কভুক্ত ৭ হাজারের বেশি ফার্মেসির অন্যতম। ইউএসএআইডি বাংলাদেশ জুড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এসএমসি নেটওয়ার্ককে নিয়ে কাজ করে আসছে।

রাষ্ট্রদূত মিলার সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ‘আমেরিকান কর্নার’পরিদর্শন করেন। ১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র বছরে বেশ কয়েক হাজার তরুণ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন রকম কার্যক্রমে স্বাগত জানায়। এ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি স্তরের কর্মসূচি, ইংরেজি শেখা, নেতৃত্ব এবং কর্মী উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি যেগুলো কিনা বাংলাদেশিও আমেরিকানদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ায়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছে তা জানতে রাষ্ট্রদূত সম্মানজনক ফুল ব্রাইট এবং আন্তর্জাতিক ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন।

স্থানীয় বাখরখানি ও হালুয়া উপভোগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সিলেট ত্যাগ করার পূর্বে রাষ্ট্রদূত মিলার, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, চতুর্দশ শতাব্দীর শ্রদ্ধাভাজন সুফি সাধক হজরত শাহজালালের (র) মাজার পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি স্থানীয় জলখাবার বাখরখানি ও হালুয়া উপভোগ করেন।

রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সিলেট সফরটি বাংলাদেশি এবং আমেরিকানদের মধ্যে সহযোগিতা, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক মিশনের এ বছরের অনেক গুলো উদ্যোগের একটি।

ইত্তেফাক/অনি