আরো শক্তি বৃদ্ধি হলো ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর। মঙ্গলবার পাঠানকোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আটটি অ্যাপাচি এএইচই-৬৪ই অ্যাটাক হেলিকপ্টার যোগ দিল ভারতীয় বিমান বাহিনীতে। এই অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারগুলো ভারতের যুদ্ধক্ষেত্রে সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ভারত এই ধরনের ২২টি হেলিকপ্টার সরবরাহের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই হেলিকপ্টারগুলোকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত হেলিকপ্টার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পাঠানকোটে এয়ারফোর্স স্টেশনে বিমানবাহিনী প্রধান বিএস ধানোয়ার উপস্থিতিতে হেলিকপ্টারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় ভারতীয় বিমান বাহিনীতে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম হাতিয়ার রুশ এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার কিন্তু সেগুলোর মেয়াদ শেষের পথে। এবার সেখানে জায়গা নিতে চলেছে ঐ অ্যাপাচি এএইচই-৬৪ই অ্যাটাক হেলিকপ্টার। অ্যান্টি-আর্মার ক্ষেপণাস্ত্র চালিত হেলিকপ্টারগুলো রাজস্থানের মরুভূমিতে ট্যাঙ্ক ও লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল লক্ষ্যে আক্রমণ করতে পারে। এগুলো প্রতিপক্ষের শনাক্তকরণ এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর উন্নত সেন্সর রয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর হয়ে অ্যাপাচি এএইচই-৬৪ই অ্যাটাক হেলিকপ্টার ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রথম সফল পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অ্যাপাচি উড়ানোর প্রশিক্ষণ নেন প্রথম ব্যাচ।
আরও পড়ুন: বিরোধীদলীয় নেতা হতে স্পিকারকে জিএম কাদেরের চিঠি
এই হেলিকপ্টারগুলো প্রসঙ্গে বোয়িংয়ের বিবৃতি তুলে ধরেছে প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া। ‘এটি কার্যত যে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে সক্ষম। অ্যাপাচি এএইচই-৬৪ই অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলো উপযুক্ত সামরিক হেলিকপ্টার। এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর থ্রাস্ট এবং লিফট, যৌথ ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, টিকে থাকার অত্যাধুনিক ক্ষমতা এবং চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে এটিকে ব্যবহার করা সম্ভব।’ ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘পুনর্গঠন ছাড়াই জেনারেশন, সুরক্ষা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রাণঘাতী আক্রমণ সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে এই অত্যাধুনিক মার্কিন হেলিকপ্টারকে, এগুলো যে কোনো পরিবেশে কমান্ডারের প্রয়োজন মেটাতে অনন্যভাবে উপযুক্ত।’
এনডিটিভি
ইত্তেফাক/ইউবি