চলতি বছরের মধ্যে তেল বিক্রির সমপরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেলেই তেহরান পরমাণু চুক্তিতে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে ফিরতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐ চুক্তি রক্ষা করতে ফ্রান্সের খসড়া পরিকল্পনাতে এই ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব আছে। তবে ফ্রান্সের দেওয়া এই প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন প্রেস টিভি এ কথা জানালে, বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার তৈরি হয়। এদিকে চুক্তি রক্ষায় ইউরোপীয় শক্তিকে আরো দুই মাস সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
ফরাসি পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের ইতিবাচক অবস্থানের বিষয়টিই বুধবার আরাকচি নিশ্চিত করেছেন বলে ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ফ্রান্সের ঐ প্রস্তাবে ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে ফেরার বিনিময়ে চলতি বছর শেষের আগেই ১৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমন পদক্ষেপে ওয়াশিংটন বাধা দেবে না বলেও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। আরাকচি উদ্ধৃত করে ফার্স জানিয়েছে, ‘পরমাণু চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ফেরার বিষয়টি আগামী চার মাসের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে; না হলে যেভাবে ইরান চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরছিল, তা অব্যাহত থাকবে।’
ইরানের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয় ইউরোপকে আমাদের কাছ থেকে তেল কিনতে হবে, না হলে ইরানের তেল বিক্রির নিশ্চিত আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দিতে হবে। অন্যভাবে দেখলে একে তেলের আগাম বিক্রি ধরা যায়।’ তেল বিক্রির সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দেওয়ার বদৌলতে চুক্তিতে ফিরতে চাইলেও ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অংশীদারদের ভবিষ্যত্ আলোচনার ‘বিষয়বস্তু নিয়ে গুরুতর মতবিরোধ’ রয়েছে বলেও আরাকচি জানিয়েছেন। তবে ফ্রান্সের দেওয়া এই প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে, ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রেস টিভি এ কথা জানালে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
এদিকে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি চুক্তি রক্ষায় ইউরোপীয় শক্তিকে আরো দুই মাস সময় দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান এখনো চুক্তির তাত্পর্যপূর্ণ লঙ্ঘনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ‘অসাধারণ প্রভাব’ থাকতে পারে।