বরগুনা আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ২৪ নম্বর আসামি শিশু আরিয়ান হোসেন শ্রাবণকে গতকাল বুধবার মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই মামলার অন্য ছয় কিশোর আসামিকে গতকাল যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়।
আরিয়ানের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জামিনের প্রার্থনা করে বলেন, আসামি এক জন শিশু। তার বয়স ১৬ বছর, স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সে অপরাধের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। পুলিশ ১৯ বছর দেখিয়ে তাকে চালান দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সঙ্গে কারাগারে রাখার কারণে আরিয়ান শ্রাবণ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান আরিয়ানের জামিনের আদেশ দেন।
এদিকে আলোচিত এ হত্যা মামলায় গতকাল আবারও অধিকতর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এর আগে কিশোর ১৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজিপি বরাবরে করা আবেদনে উল্লেখ করেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি প্রধান সাক্ষী ছিল। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিন পর একটি প্রভাবশালী মহল ও পুলিশ সুপারসহ অন্যরা রিফাত শরীফের বাবা মামলার বাদীকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে আমার মেয়েকে হত্যার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ রিমান্ডে এনে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। এমতাবস্থায় আমি রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অথবা সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে রিফাত হত্যা মামলায় ছয় কিশোর আসামিকে গতকাল বুধবার বিকালে বরগুনার জেলখানা থেকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) নিয়ে আসা হয়। ঐ ছয় জনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মঙ্গলবার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তাদের যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। কেন্দ্রের সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান সরকার জানান, বুধবার সকালে সেখানকার প্রবেশন অফিসার মনিরুজ্জামান বরগুনা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ছয় কিশোরকে যশোর কেন্দ্রে আনেন। তারা হচ্ছে রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী, ওলিউল্লাহ ওরফে অলি, জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন, তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ। এর আগে গত ১৫ জুলাই রাতুল শিকদার জয় নামে আরো এক জনকে এ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সর্বমোট সাত কিশোর এখন যশোর কেন্দ্রে রয়েছে।