বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার বন্ধে সোচ্চার হোন :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের ব্যাবসায়িক স্বার্থে বিদেশে বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডা (অপপ্রচার) মোকাবিলায় কাজ করতে রপ্তানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের কিছু লোক আছে অনবরত আমাদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালায়। এটা আপনাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। যার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হন আপনারা ।

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের নবনির্বাচিত সদস্যরা দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এসব অপপ্রচার চালিয়ে তারা আমাকে পলিটিক্যালি ক্ষতি করতে চায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান আপনারা ব্যবসায়ীরা। তাই এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনাদের সোচ্চার হতে হবে।          প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশটাকে আমরা গড়ে তুলতে চাই, সব দিক থেকে। আর আমাদের অর্থনীতি যদিও কৃষিপ্রধান, কিন্তু এটাও ঠিক শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হয় না। এটাও বাস্তবতা। সেজন্য একদিকে আমরা কৃষিকেও গুরুত্ব দেই, আবার শিল্পকেও গুরুত্ব দেই।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হকের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসার পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন,  তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। গত অর্থবছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানি করে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিডিপির ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর বাংলাদেশ পুরোবিশ্বে যে পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে তার ৬২ শতাংশই ইউরোপীয় দেশগুলোতে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএ নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে গেলেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কোনো সমস্য হবে না। ব্রেক্সিটে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের এক্সপোর্ট রয়েছে সেগুলো থাকবে। কোন দেশে কোন পণ্যের বাজার আছে তা খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রপ্তানি বাড়াতে তিনি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশের কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের একটা সুবিধা হলো এখানে শুধু লেবার কস্ট কম তা কিন্তু না। আমরা যে পরিমাণ সাপ্লাই দিতে পারি, এটা অন্য কোনো দেশ দেবে না। আমাদের দেশের লেবাররা খুবই ভালো। সরকার যে উত্পাদন খরচের চেয়ে কম দামে শিল্পখাতের জন্য বিদ্যুত্ ও গ্যাস দিচ্ছে, সে কথাও প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএ নেতাদের মনে করিয়ে দেন।

বিজিএমইএর নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।