ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা, পুলিশকে গণপিটুনি

রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই চেষ্টার সময় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন আল মামুন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল। গতকাল বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ঐ পুলিশ সদস্যের মারধরে আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়। রাতে আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করলে কনস্টেবল মামুন ও তার বন্ধু জিতুকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, গ্রেফতার পুলিশ সদস্যের দাবি, তিনি এক বন্ধুর পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতার মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলেন। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি ঐ পুলিশ সদস্য বা তার বন্ধুকে চেনেন না। সেক্ষেত্রে টাকা ধার নেওয়ার প্রসঙ্গই অবান্তর। ভুক্তভোগীর বক্তব্য আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।  

মতিঝিল থানা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার নবাবপুরের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মতিঝিলের একটি ব্যাংকের সামনে থেকে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেন আল মামুন। তিনি উঠতে আপত্তি করায় তাকে মারধর করা হয়। মামুনের হেলমেটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় তার। পরে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে মতিঝিলের মোহামেডান ক্লাব এলাকায় ভুক্তভোগী ‘ছিনতাইকারী-ছিনতাইকারী’ বলে চিত্কার শুরু করেন। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে যায় ও মামুনের পথরোধ করে। পুলিশ পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে উপস্থিত জনতা মারধর করে তাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মতিঝিল থানা পুলিশ। ঘটনার এ পর্যায়ে মামুন নিজের পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, জিতু নামে তার এক বন্ধু ঐ ব্যবসায়ীর কাছে টাকা পান।

বংশাল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় আল মামুন সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন না। তাছাড়া মতিঝিল তার দায়িত্বাধীন এলাকাও নয়। মঙ্গলবার রাতে তিনি পুলিশের টহল দলের গাড়ি চালিয়েছেন। বুধবার দিনে তার বিশ্রামে থাকার কথা ছিল।