ফের ধাক্কা খেলেন বরিস, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে আরেক বিল পাশ

ব্রিটেনের পার্লামেন্টে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একটি বিল পাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরোধী এমপিরা। গতকাল বুধবার দ্বিতীয় ধাপের বিলটি ৩২৯-৩০০ ভোটে পাশ হয়। এর আগে মঙ্গলবার একটি বিল পাস করে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেন বিরোধী এমপিরা। ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রীর নিজ দলের এমপিরাও যোগ দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই ২১ বিদ্রোহী এমপিকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস। এদের মধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রীও আছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

যা হলো ভোটাভুটিতে

আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা। কিভাবে ও কোন চুক্তিতে সেই বিচ্ছেদ হবে, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই বিচ্ছেদ নিয়ে চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার ব্যাপারে অনড় প্রধানমন্ত্রী বরিস। নিজ দলের এমপিদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও বাগে আনতে পারেননি। বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে হাউজ অফ কমন্সে ৩২৮-৩০১ ভোটে হেরে যান তিনি। গতকাল বিল পাশের ক্ষেত্রে হারেন ২৯ ভোটে। এরপর জনসন দলের ২১ বিদ্রোহী এমপিকে বরখাস্ত করেন। এদের মধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের নাতিও আছেন। গতকাল আরেকটি বিল পাশ হয় যা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকানোর অন্যতম চেষ্টা। গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমপিরা বিলটির সংশোধনীর ওপর ভোট দিচ্ছিলেন। সংশোধনীটি পাশ হলে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে যাবে। যদি লর্ডস কোনো সংশোধনী দেয় তাহলে ফের হাউজ অব কমন্সে ফিরে আসবে। সেটি পাশ হলে আবার হাউজ অব লর্ডসে যাবে। এরপর পাশের জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে পাঠানো হবে। তিনি অনুমোদন দিলে সেটি আইনে পরিণত হবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বরিস ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইইউ ত্যাগ করতে পারবেন না। এমপিরা আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণ বিল পাশ করতে চান। কারণ এরপর থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত হয়ে যাবে।

বরিস বলেছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া তার কিছু করার নেই। তিনি বলছেন, দেশের জনগণকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদিও তার জন্য সহজ হবে না। কারণ ব্রিটেনে ২০১১ সালের এক আইনে পার্লামেন্টকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। সেটি পরিবর্তন করতে পার্লামেন্টে বরিসের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে যার জন্য বিরোধী এমপিদের সমর্থনও পেতে হবে।

বিরোধীদের বিল পাশ হলে কী হবে?

ভোটে জয়ের কারণে এমপিদের নিয়ন্ত্রণে হাউজ অফ কমন্স। এর ফলে তারা ব্রেক্সিট ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল এনেছেন যা প্রথম ধাপে পাশ হয়েছে। তবে সেটি তখনই ঘটবে যদি এমপিরা ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটের জন্য নতুন চুক্তি অনুমোদন বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট না দেন। প্রধানমন্ত্রী ১৫ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন করতে চান। এর দু’দিন পরেই ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে ইইউ। লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর নেই। বিরোধীদের দাবি, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট যেন না হয় সেটি আগে নিশ্চিত করা, তারপর যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি।