আঙুলে গুনতে গেলে আর ছয় মাসেরও কম সময় বাকী।
আরেকটা বিশ্বকাপ দেখতে দেখতে চলে এসেছে। বাংলাদেশও এখন ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নামছে সেই বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই তারা ১৬ সদস্যের দল করেছেন এই সিরিজের জন্য। যাতে এই দল নিয়েই কম বেশি বিশ্বকাপে যাওয়া যায়। তবে মাশরাফি বললেন, বিশ্বকাপের সত্যিকারের প্রস্তুতিটা শুরু হবে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে।
বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই যে দলটা করা হয়েছে, সেটা গতকাল বারবারই বললেন মাশরাফি। সে জন্যই ফর্মে থাকা কাউকে বাইরে রেখে তারা ১৪ সদস্যের দল করতে চাননি। যাতে কারো আত্মবিশ্বাসে আঘাত না লাগে, সেটা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, ‘যদি ১৪ জনের দল করতাম, ইনফর্ম প্লেয়ার টিমের বাইরে রাখলে, ওদের উপর মানসিক আঘাত হতো। তাই আমরা ওই জায়গাটা আগে নিশ্চিত করতে চেয়েছি যে, ১৬ জনের দায়িত্ব আমাদের সবার আছে। আর বিশ্বকাপ পর্যন্ত এভাবে যতটুকু পারা যায় রাখা। যদি সবাই সুস্থ থাকে, বেঁচে থাকে এবং ফর্ম ক্যারি করে তাহলে মোটামুটি এখান থেকেই আমরা বিশ্বকাপের দল করবো।’
১৬ সদস্যের দল করলেও মাঠে নামতে হবে ১১ জনকে। তাই ফর্মে থাকা বিশেষ করে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান কেউ না কেউ হয়তো একাদশে সুযোগ পাবেন না। যে বাদ পড়বে, সে যে ব্যাপারটা সহজেই নেবে, সেটাও মাশরাফি বিশ্বাস করেন, ‘প্রথমত যে বাদ পড়ছে তার সঙ্গে আলাদা করে বসার কিছু নেই। এখানে কম্বিনেশনের ব্যাপার থাকে। ওপেনিংয়ে ইমরুল শেষ তিনটা ম্যাচে প্রায় সেঞ্চুরি, দুইটা সেঞ্চুরি, একটা বড় হাফ সেঞ্চুরি আছে। এখন কথার কথা যদি ইমরুলকে বসিয়ে দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে যদি লিটন খেলে, সেক্ষেত্রে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনটা জরুরি কতটুকু এটা দেখতে হবে, এর মানে এই না যে ইমরুল বুঝবে না। আবার ইমরুল খেললে লিটনকেও বুঝতে হবে হি ইজ ইন ফর্ম। তো এই ব্যাপারগুলো আছে। এর মানে এই না যে তাদেরকে খাটো করা বা তারা জরুরি না, সেটা একবারে জন্যও না।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা বললেও মাশরাফি বলছেন, মিরপুরের উইকেটের কারণেই সেটা এখনই শুরু করা সম্ভব হবে না বলেই মাশরাফি জানিয়ে দিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা যা চাই এখানকার উইকেট সেটা দিতে পারবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। এই মাটিতে এটা অসম্ভব। ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ড উইকেটের সঙ্গে মেলানো সম্ভব নয়। হয়তো চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে সিমিলারিটি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মিরপুরে এটা সম্ভব নয়। আমাদের কিভাবে জেতা যায় ওইদিকেই ফোকাস থাকা জরুরি।’
আর এই বাস্তব কারণেই মাশরাফি মনে করেন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিটা আসলে শুরু হবে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে, ‘আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপের পস্তুতি নিউজিল্যান্ড থেকেই বেটার নেওয়া যাবে। উইকেটে, কন্ডিশন, আউটফিল্ড সবকিছু মোটামুটি সিমিলার কন্ডিশন থাকবে। এখান থেকে যেটা ইতিবাচক হতে পারে, জিতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাওয়া। না হলেও যে ওখানে গিয়ে হেরে যাবো এটাও নাও। একচুয়েল প্রস্তুতির কথা যেটা বললেন, সেটা আইডিয়াল প্রস্তুতি না।’