বিসিএল

মধ্যাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল ম্যাচে রোমাঞ্চকর ড্র

স্পোর্টস রিপোর্টার

শেষ দিনে জয়ের জন্য ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের দরকার ছিল আট উইকেট, ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের ২৫৫ রান। ম্যাচটা দৃশ্যতই হেলে ছিল মধ্যাঞ্চলের দিকে। কিন্তু বগুড়ায় ম্যাচটার নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছিল গতকাল। মাহমুদুল হাসানের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ৩২৬ রানের টার্গেট পাড়ি দেয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জে প্রায় জিতেই যাচ্ছিল পূর্বাঞ্চল। আগের দিন চালকের আসনে থাকলেও গতকাল হারের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল মধ্যাঞ্চল।

পাঁচ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে ফেলেছিল পূর্বাঞ্চল। পরে ৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। অষ্টম উইকেটে এনামুল হক জুনিয়র-আবু জায়েদ রাহী ২৭ রানের জুটি গড়ে আবারও আশা জাগিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী বেড়াতে পারেনি পূর্বাঞ্চল। তারা জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা। রোমাঞ্চকর ড্রয়ে সমাপ্ত হয় বিসিএলের (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) তৃতীয় রাউন্ডে মধ্যাঞ্চল-পূর্বাঞ্চলের ম্যাচ। চট্টগ্রামে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ও বিসিবি উত্তরাঞ্চলের ম্যাচটি অনুমিতভাবেই ড্র হয়েছে।

শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ৩২৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পূর্বাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩২০ রান তুলতে পেরেছে। গতকাল আরও পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান করেছিল দলটি। যেখানে মূল অবদান মাহমুদুল হাসানের। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দিনে হারের হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তার। ক্যারিয়ার সেরা ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে আশরাফুলের সঙ্গে ১০৩, চতুর্থ উইকেটে তাসামুলের সঙ্গে ৮৮ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। ২৮৪ রানে তার বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন মাহিদুল ইসলাম (২৩), অধিনায়ক ফরহাদ রেজা (২)।

সেই চাপ কাটিয়ে এগুতে থাকলেও দিনের খেলার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। এনামুল জুনিয়র ১৬, আবু জায়েদ রাহী ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। আশরাফুল ৬৪, তাসামুল ৩৬ রান করেন। মধ্যাঞ্চলের শহীদুল তিনটি উইকেট পান। ম্যাচ না জিতলেও সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান ম্যাচ সেরা হন।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উত্তরাঞ্চলের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৯৪ রানে। গতকাল ১২ রান যোগ করতেই শেষ তিন উইকেট হারায় দলটি। দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্জাক ১২৬ রানে ছয় উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চল পাঁচ উইকেটে ২৪৮ রান তুলতেই দুদল ম্যাচ ড্র মেনে নেয়। আল-আমিন জুনিয়র অপরাজিত ৭৫, মেহেদী হাসান অপরাজিত ৬০, বিজয় ৬৬ রান করেন। উত্তরাঞ্চলের এবাদত, রিশাদ দুটি করে উইকেট পান। উত্তরাঞ্চলের জুনায়েদ সিদ্দিকী ম্যাচ সেরা হন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মধ্যাঞ্চল: ১১৮ ও ৩৯৩

পূর্বাঞ্চল: ১৮৬ ও ৩২০/৭, ৯৭.২ ওভার (মাহমুদুল হাসান ১৩৫, আশরাফুল ৬৪, তাসামুল ৩৬, মাহিদুল ইসলাম ২৩, এনামুল জুনিয়র ১৬*, আবু জায়েদ রাহী ১৪*; শহীদুল ৩/৭৩, তাইবুর ১/৪৪, শাহাদাত ১/৭৬, সালাউদ্দিন শাকিল ১/৭০)।

ফল: ম্যাচ ড্র

ম্যাচ সেরা: মাহমুদুল হাসান (পূর্বাঞ্চল)

দক্ষিণাঞ্চল: ৩২৯ ও ২৪৮/৫, ৬৪ ওভার (আল-আমিন জুনিয়র ৭৫*, মেহেদী হাসান ৬০*, বিজয় ৬৬, ফজলে মাহমুদ ২২, রকিবুল ১৬; এবাদত ২/২৭, রিশাদ হোসেন ২/৬১, সোহাগ গাজী ১/৭১)

উত্তরাঞ্চল: ৩৯৪, ১৭১.১ ওভার (জুনায়েদ ১১২, জিয়াউর ৯০, নাঈম ইসলাম ৮৩, ধীমান ঘোষ ৫১, সানজামুল ১৯, সোহাগ গাজী ১১; রাজ্জাক ৬/১২৬, দেলোয়ার ১/৪৩, কামরুল ইসলাম রাব্বি ১/৬৮, মেহেদী হাসান ১/৮৭, নাহিদুল ১/৫৭)।

ফল: ম্যাচ ড্র। ম্যাচ সেরা: জুনায়েদ সিদ্দিকী (উত্তরাঞ্চল)|