নড়াইলে অপরিকল্পিতভাবে গারো চোরা খাল খনন

অপরিকল্পিতভাবে নড়াইল সদর উপজেলার গারো চোরা খাল খননের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। খাল পুনঃখননের পর খালের পাশ দিয়ে নির্মিত পাকা রাস্তার প্রায় ২০০ গজ ভেঙে গেছে ও মাটি দেবে গেছে। প্রায় ১৫টি বসতবাড়ির উঠানের সামনের মাটি ভেঙে খালের সঙ্গে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। দুটি খুঁটি খালের মধ্যে হেলে পড়ায় বিদ্যুত্ অফিস থেকে পুনঃসংযোগ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার শহাবাদ ইউনিয়নের দলজিত্পুর-গারোচোরা গ্রামের পার্শ্বে চিত্রা নদী থেকে চাঁনপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার একটি খাল ছিল। দীর্ঘ ৫০ বছর এ খাল খনন না করায় অধিকাংশ জায়গা দখল হয়ে যায়। দখলদাররা এ খালের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করে ও তাদের লাগানো গাছগাছালি বেড়ে ওঠে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক তিনটি প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এ খালটির ১৭০০ মিটার পুনঃখনন করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও খাল ১৫-২০ ফুট প্রশস্ত থাকলেও সেখানে গভীরতা করা হয়েছে ১৪ থেকে ১৬ ফুট। আবার খালের উত্সমুখ চিত্রা নদীর কাছাকাছি এলাকায় খাল না কেটে কাটা হয়েছে ড্রেন। ফলে নদী থেকে খালের ভেতরে পানি প্রবেশ করতে পারছে না। এদিকে অনেক জায়গায় খাড়াখাড়িভাবে খাল খনন করায় খালের দুই পাড়ের মাটি ভেঙে যাচ্ছে এবং খালপাড়ের মানুষের বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। খালের পূর্বপাশ দিয়ে নড়াইল পৌরসভার নির্মিত পাকা সড়কের বিভিন্ন জায়গা দেবে যাচ্ছে। এরই মধ্যে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে এবং বাকিগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দলজিত্পুর গ্রামের অলেয়া বেগম বলেন, তার তিন শতক জায়গা খালের মধ্যে চলে গেছে। এভাবে এখানে প্রায় ১৫ জনের নিজস্ব জায়গা খালের মধ্যে চলে গেছে। এছাড়া কয়েক লাখ টাকার মূল্যবান ফলদ ও বনজ গাছ কাটা পড়েছে। একই গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লুত্ফুন নেছা বলেন, খালের পাড় ভেঙে তার জায়গা খালের মধ্যে চলে যাচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে না কেটে ঝুড়ি-কোদাল ব্যবহার করে খাল খনন করলে এ সমস্যা হতো না।

গারো চোরা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানান, খাল খননের পর থেকে প্রতিদিনই একটু একটু করে পাকা রাস্তা ভেঙে খালের মধ্যে বিলীন হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। এখন দুটি খুঁটি যে কোনো সময় খালের মধ্যে পড়তে পারে। তিনি বলেন, খালের উত্সমুখের কয়েকশ গজ সরু ড্রেনের মতো হওয়ায় জোয়ারের সময়ও নদীর পানি খালে প্রবেশ করে না। ফলে যে উদ্দেশ্যে খাল খনন করা হয়েছে তা পূরণ হয়নি। ঠিকাদার এনামুল হক বলেন, প্রশাসন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া জায়গার ওপরই খাল খননের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর বাধার কারণে কয়েক জায়গা ঠিকমতো কাটতে পারেননি বলে জানান।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, দীর্ঘ বছর পরে এ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় এলাকাবাসীর বাধার সম্মুখীন হওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের বাধার কারণে গারো চোরা খালের ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, পরিবেশ রক্ষা, মত্স্য চাষ, কৃষি চাষাবাদসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য এসব খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গারো চোরা খাল তিনি পরিদর্শন করেছেন। এখানকার  সমস্যা দেখবেন বলে তিনি জানান।