আক্রমণাত্মক ক্রিকেটে বিশ্বাসী মিসবাহ

রক্ষণাত্মক হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটা পরিচিতি আছে মিসবাহ উল হকের। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা তার দখলে। টেস্টে পাকিস্তানকে র্যাংকিংয়ের শীর্ষে তোলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিসবাহ। এখনো তাকে টুক-টাক হিসেবেই অবহিত করা হয়।

পাকিস্তানের নতুন হেড কোচ ও নির্বাচক নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও মিসবাহকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়াল সেই শঙ্কা। তার অধীনে পাকিস্তান দলটা না আবার রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। অবশ্য পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, তার চাওয়া পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলুক। 

সংবাদ সম্মেলনে মিসবাহের বক্তব্য নিয়ে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো গতকাল লিখেছে, ‘আমি সবসময় বলে এসেছি—আমরা যেভাবে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ধারা নিয়ে চিন্তা করি তার মাঝে কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আপনার কৌশল নির্ভর করে আপনার সম্পদের ওপর। আদর্শ হয় আপনি চেষ্টা করবেন এবং এমন সম্পদ থাকবে যাতে করে আপনি আধিপত্য দেখাতে পারেন এবং প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিতে পারবেন।’

পাকিস্তানের নতুন কোচ ও নির্বাচক হিসেবে নিজের কাজের ধরন নিয়ে মিসবাহ বলেছেন, ‘কোচ হিসেবে আমি চেষ্টা করব এমন একটা দল গড়তে যারা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে এবং সহজে জিতবে। কিন্তু কিছু সময়ে আপনি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার মূল্যায়ন করবেন এবং সে অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোচ হিসেবে আমার কাছে গুরুত্ব পাবে দল যারা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে এবং দাপট দেখাবে। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কিছু সময় আপনাকে আবার নিজের কৌশলের দিকে ফিরে তাকাতে হবে।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি হয়েছে মিসবাহর। কোচ ও নির্বাচকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে। সঙ্গে ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন তিনি। যা তার জন্যও বড় দায়িত্ব বটে। মিসবাহকে নিয়োগ দেয়ার পর পিসিবির সিইও ওয়াসিম খান বলেছিলেন, ‘সবাই দায়-দায়িত্ব নিয়ে কথা বলে। এখন দল নির্বাচন ও দলের পারফরম্যান্সের দায় থাকবে মিসবাহর ওপর।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘হেড কোচের সঙ্গে নির্বাচকের ধারণাটা নতুন। এখন মিসবাহের কাঁধে অনেক দায়িত্ব বর্তাবে। দলের পারফরম্যান্সের দায়-দায়িত্বের জন্য সে একাই দায়ী হবে। সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন পদ্ধতি চালু হলে, রাজ্য দলের হেড কোচরা ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিভাবানদের সম্পর্কে মিসবাহকে অবহিত করবে।’

এদিকে, গুঞ্জন আছে মিসবাহকে সহযোগিতা করতে এবং দলকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের কোচিং স্টাফে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন ওয়াকার ইউনুস। যদিও  পিসিবির সঙ্গে কোচ হিসেবে ওয়াকারের আগের মেয়াদ শেষ হয়েছিল অনেক তিক্ততার মধ্য দিয়ে।