‘এটাই সবচেয়ে ভালো জাতীয় দল’

তার চোখে বর্তমান ফুটবল দলটাই সবচে ভালো একটি দল। আগের ফুটবলের তুলনায় এখনকার জাতীয় ফুটবল দলটাকে ভালো দল বলেছেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। উদাহরণ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘রেজাল্টের দিক থেকে বিচার করলে বর্তমান সময়ের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেই বলতে হয়, তারা যতটুকু আনছে; আমরা ততটুকু আনতে পারিনি।’

বাফুফের সভাপতি প্রায় বর্তমান ফুটবল খেলোয়াড়দের পক্ষে কথা বলেন। তাদের সম্মান দিয়ে কথা বলেন। পারফরম্যান্সের বিচারে কিংবা রেজাল্ট এনে দেওয়ার বিচারে দেশের বর্তমান ফুটবলাররা অনেক বেশি রেজাল্ট উপহার দিচ্ছেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘রেজাল্টের বিবেচনায় এখনকার ফুটবলারদের অবদানের কথা বলব।’ গতকাল দুপুরে বাফুফের সভাপতি সালাহউদ্দিন গিয়েছিলেন ক্লিয়ার ম্যান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের বাছাই ঘোষণা অনুষ্ঠানে। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নে দেশের বর্তমান খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন বাফুফে সভাপতি।

একটা সময় প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্না ও তার উত্তরসূরীদের প্রশংসা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাধারণ আলোচনায় প্রায়ই বলতেন তাদের চেয়ে নতুন উঠে আসা ফুটবলাররা অনেক ভালো। তারা দেশকে ট্রফি দিয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়ন করেছে। কাজী সালাহউদ্দিন কিংবা মুন্নার কণ্ঠে একই সুর। তারা নিজেদের কখনোই বড়ো ফুটবলার হিসাবে দাবি করেননি। তাদের পরবর্তী সময় উঠে আসা ফুটবলারদের কথা বলেছেন। মুন্নার কথাগুলো যাদের স্মরণে রয়েছে তারা কাল বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের কথার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। মাসুদ রানা, জুয়েল রানা, হাসান আল মামুন, আরিফ খান জয়, আমিনুল, বিপ্লব, আলফাজ আহমেদ, পারভেজ বাবু, সুজনদের সময়ের খেলোয়াড়রা নেপালে সাফ গেমস ফুটবলের প্রথম স্বর্ণ পদক, ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ট্রফির স্বাদ দিয়েছিলেন সে সময়।

নিজেদের সময়ে খুব একটা সুযোগ-সুবিধা ছিল না। এখনকার ফুটবলাররা যতটা ভোগ করেন। এই প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। তার মতে, ফুটবলে এটা খুব একটা বেশি কিছু না।

প্রসঙ্গ বদলে উঠে এলো নারী ফুটবলারদের কথা। গতকাল বিকালে থাইল্যান্ড পৌঁছেছেন অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলাররা। এশিয়ার সেরা আট দেশের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন বাংলার মেয়েরা। প্রতিপক্ষ জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং থাইল্যান্ড। সবচে শক্তিশালী জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। ভয়ে আছেন বাফুফে সভাপতি। শক্তির বিচার করলে গ্রুপ পর্বে তিন দেশের বিপক্ষেই বাংলাদেশ হারবে সেটা সহজেই অনুমেয়। যদি প্রত্যাশিত কিছু না ঘটে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হারের ব্যবধানটা যেন খুব বেশি বড়ো না হয়ে যায়। বাফুফে সভাপতি বাস্তবতা মেনে নিয়ে জানিয়েছেন, মেয়েদের দলটির যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল, সেটি করতে পারেনি বাফুফে। বাফুফে চেয়েছিল ইউরোপে পাঠিয়ে এক মাস রেখে আরো ভালোভাবে দলটাকে গড়ে তোলা। কিন্তু সেখানে যেতে হলে বড়ো অঙ্কের অর্থেরও প্রয়োজন।