ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক ও জাপান

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে যত অর্থের প্রয়োজন হোক না কেন দিতে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের পরামর্শও নিবো। দেশের ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ খাতে কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেল্টা প্ল্যান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডের পাশাপাশি ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে আসবে। এ খাতে অর্থ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে। ডেল্টাপ্ল্যানে যদি ভারতও আসতে চায়, তবে স্বাগত জানাব। সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে। সড়কে বাস-বে, সড়কের পাশে চালকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ নানা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এসব দেখে প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নতুন আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় অর্থায়নের নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করবে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিষয়ে সংস্থাটির ইতিবাচক ধারণা হয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্থাটি অর্থায়ন করতে উন্মুখ। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন বলেন, নদী, পানি ও ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ব্লু-ইকোনমির ৮৮ শতাংশ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী বাংলাাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্টদূত হিরোইয়াসু ইজুমি সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নে জাপান আসতে চায়।  নদীর মধ্যে যেসব সম্পদ আছে তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে দেশটি।

আমাদের নদীগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে কাজে লাগানো হবে। রাইন নদীর মতো পাড় বেঁধে দেওয়া হবে। নদীর এক পাড়ে ট্রেন অন্যপাড়ে গাড়ি চলবে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে তাদের ব্যাপক আশা রয়েছে। মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরবর্তী ধাপে এটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে। আমাদের আরো অনাবিষ্কৃত সম্ভানাময়ী খাতগুলোসহ, বিশাল সমুদ্রের বিপুল সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে সে বিষয়েও তারা খুবই আগ্রহী। অর্থমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে অত্যাধুনিক লবণ উত্পাদন কারখানা স্থাপন করবে জাপান। ফলে লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে রফতানিতে অবদান রাখবে। জাপানে জনশক্তি রফতানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাপানিরা খুবই শান্তিপ্রিয় জাতি। তারা খুব জোরে কথা বলা পছন্দ করে না সুতরাং এই সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে জাপানে লোক পাঠানো হবে। জাপানে লোক পাঠানোর জন্য ভাষা ও সংস্কৃতির বিষেয়ে বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সকল ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তত জাইকা। আমাদের অর্থনৈতিক খাতের অটোমেশন ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে জাপান। যার মাধ্যমে আমাদের এনবিআর সম্পূর্ণরূপে অটোমেটেড হবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত, ইন্স্যুরেন্স, পুঁজিবাজারও অটোমেশনে চলে আসবে।