ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড ও ডেটাবেজ প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হলে, নিবন্ধনকৃত ফ্রিল্যান্সাররা নানাবিধ আর্থিক সেবা সহজে পাবেন। গতকাল আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কর্মরত ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক এমপি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিডার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিএফডিএস)-এর নেতৃবৃন্দ। সালমান এফ রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের এই সম্ভাবনাময় শিল্প শুধু যথাযথ পেশাগত স্বীকৃতির অভাবে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারছে না। সামাজিক ও আর্থিক বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, উপার্জিত অর্থ দেশে আনা ও পেশাগত স্বীকৃতির অভাবে নানাক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, তা সমাধানের লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগ ও বিএফডিএস-এর যৌথ উদ্যোগে ডাটাবেজ করা হচ্ছে। এতে এতে বিদেশ থেকে অর্থ আনার পথ আরো সহজ হবে। উন্মুক্ত আলোচনায়, ফ্রিল্যান্সারদের প্রতিনিধি হিসেবে বিএফডিসি নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ইস্যুর ওপর আলোচনা করেন। ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, তাদের ব্যাংকই প্রথম ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ দেশে আনার পথ সুগম করে। গত দুই বছরে কেবল ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমেই ১০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বাংলাদেশে এনেছেন ফ্রিল্যান্সাররা। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে গত বছর এসেছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ফ্রিল্যান্সারদের উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিষয়ে বিএফডিএস ও আইসিটি বিভাগ-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া নিবন্ধনকৃত ফ্রিল্যান্সারদের বিনা সুদে কিস্তিতে ডিজিটাল ডিভাইস কেনার সুযোগ দিতে ওয়ালটন ও বিএফডিএসের মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।