চট্টগ্রামে স্পিনারদের লড়াই হবে, এটা অনুমিতই ছিল। প্রথম সারির ও অলরাউন্ডার মিলিয়ে সাত জন স্পিনারকে মাঠে নামালো বাংলাদেশ। বিপরীতে আফগানিস্তান দলেও পাঁচ জন স্পিনার। ১২ জন স্পিন করতে পারা খেলোয়াড়কে এর আগে কখনো টেস্ট মাঠে এক সঙ্গে দেখা গেছে কি না, এটাই সন্দেহ। তবে দিনশেষে এসব স্পিনারকে ম্লান করে দিয়ে আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হয়ে গেলেন রহমত শাহ।
ওপেনার রহমতের ইতিহাস গড়া এই সেঞ্চুরিতে ভর করে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে ৯৬ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুললো আফগানিস্তান। মাঝে একটা উইকেটহীন সেশন গেলেও পাঁচটি উইকেট তুলে নেওয়ার স্বস্তি রইলো বাংলাদেশ দলেও।
আগের দিনই আভাস মিলেছিল বাংলাদেশ একজনের বেশি ফাস্টবোলার একাদশে রাখবে না। গতকাল খেলা শুরু হতে দেখা গেল, স্কোয়াডে স্বীকৃত কোনো পেসার নেই। একমাত্র সৌম্য সরকার ছিলেন, যিনি টুকটাক পেস বোলিং করতে পারেন। বিপরীতে সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং নাঈম হাসান; চার জন প্রথম সারির স্পিনার ছিলেন একাদশে। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেনও ছিলেন।
এই বিশাল স্পিন বাহিনীর উদ্দেশ ছিল, উইকেট একটু পুরোনো হলে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। এটা অনুমান করতে পেরে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানরা। শুরুতে অবশ্য সিদ্ধান্তটা খুব সঠিক বলে মনে হয়নি। খুব দ্রুত দুই আফগান ওপেনারের উইকেট তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। ইহসানউল্লাহ ৯ রান ও ইব্রাহিম ২১ রান করে ফেরেন। ৪৮ রানে ২ উইকেট হারায় আফগানরা।
তাইজুল এর মধ্যে প্রথম উইকেট নেওয়ার ভেতর দিয়ে দেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে শত উইকেট শিকার করে ফেলেন। ২৫তম ম্যাচে এসে তিনি ১০০ উইকেটের দেখা পেয়েছেন। এর আগে মোহাম্মদ রফিক ও সাকিব আল হাসান এই কীর্তি করেছেন।
তাইজুল ২ উইকেট নেওয়ার খানিক পর আক্রমণে এসে রিয়াদ তুলে নেন হাসমাতউল্লাহর উইকেট। ৭৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর এখান থেকেই রহমত শাহ ও আসগর আফগান প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই জনে ১২০ রানের জুটি করেন।
আগের টেস্টেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৯৮ ও ৭৬ রান করেছেন রহমত। দুইবার সেঞ্চুরি মিস করা রহমত এবার আর মিস করেননি। ১৮৬ বলে সেঞ্চুরি করে ফেলেন তিনি নাঈম হাসানের বলে। পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রহমত। ১৮৭ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০২ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।
ঐ ওভারেই শূন্য হাতে মোহাম্মদ নবীকেও ফেরান নাঈম। এরপরও লড়াই চালিয়ে গেছেন আসগর আফগান। আফসার জাজাইকে নিয়ে স্কোর বড়ো করার দিকে এগোচ্ছেন তিনি। আসগর ১৬০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৮ রান নিয়ে উইকেটে আছেন। তার সঙ্গী আফসারের রান ৩৫।