পায়রা সমুদ্রবন্দরে ব্যবহারের জন্য আনন্দ শিপইয়ার্ড নির্মিত বয়া লেয়িং নৌযান রাঙ্গাবালির উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাঙ্গাবালি নামের এ নৌযানটি মেঘনা নদীতে ভাসান হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এ জাহাজটি সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাট থেকে পায়রা বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ কর্তৃপক্ষ। বন্দরে জাহাজ চলাচলের জন্য নৌপথ চিহ্নিতকরণে বয়া ব্যবহার করা হয়। একেকটি বয়ার ওজন ১০ থেকে ১৬ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। পানিতে ভাসমান বয়ার ওপরে লাল ও সবুজ সংকেত বাতি বা বিকন থাকে যার সাহায্যে জাহাজ চলাচল করে। রাঙ্গাবালি জাহাজে ২০ টন ধারণক্ষমতার একটি ক্রেন রয়েছে যা দিয়ে বয়া স্থাপন ও স্থানান্তরের কাজ চলবে। ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বয়া লেয়িং নৌযান ‘রাঙ্গাবালি’ নির্মাণে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
রাঙ্গাবালির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপ্রকল্প পরিচালক কায়সার মাহমুদ, ডক মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুল ইসলাম, ডেপুটি সুপারভিশন কনসালটেন্ট মনিরুল ইসলাম, আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ হেল বারী, আনন্দ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরুজা বারী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার, নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি) সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ নাজমা নওরোজ প্রমুখ।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপ্রকল্প পরিচালক কায়সার মাহমুদ বলেন, নির্ধারিত সময়েই আনন্দ শিপইয়ার্ড জাহাজ নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। এটা পায়রা বন্দরের জন্য বড়ো খুশির খবর। আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেড গুণগতমানের জাহাজ তৈরি করেছে যা দীর্ঘদিন সার্ভিস দেবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ হেল বারী বলেন, পায়রা বন্দরের জন্য নির্মিত জাহাজ রাঙ্গাবালি অত্যন্ত উন্নতমানের। এ জাহাজ ভালো সেবা দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। দেশে জাহাজ আমদানির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ড. বারী বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প দেশে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ খাত একদিন দেশের রপ্তানি খাতে জায়গা করে নেবে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরুজা বারী বলেন, রাঙ্গাবালি কমপক্ষে ৫০ বছর সেবা দেবে বলে আশা করছি। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ছোটোখাটো কিছু সমস্যা আছে। তবে উন্নয়নবান্ধব সরকার এসব সমস্যা নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। এটা আমাদের প্রত্যাশা।
এদিকে সম্প্রতি ৪৫টি টার্মিনাল পন্টুন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজ লিমিটেড। সদরঘাট, পাগলা, মিরকাদিম, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লাসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে এসব পন্টুন স্থাপন করা হবে। গত ২২ আগস্ট বিআইডব্লিউটিএর সম্মেলন কক্ষে আনন্দ শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরুজা বারী এবং বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে পন্টুন সরবরাহ করতে হবে আনন্দ শিপইয়ার্ডকে। এ কাজের জন্য আনন্দ শিপইয়ার্ডকে ৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেবে বিআইডব্লিউটিএ।