নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কুলশ্রী গ্রামের চা-দোকানি শাহ আলমকে (৬০) হত্যা করার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার দুপরে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন ইয়াছমিন আক্তার ও তার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত শুভ। জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.শোয়েব উদ্দিন খান ও মো. মুশফিকুল হক ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করেন। বিকালে পুলিশ সুপারের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এ তথ্য জানান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চা দোকানী শাহ আলমকে তার বাড়ি থেকে অজ্ঞাত মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন বুধবার সকাল ১১টার দিকে শাহ আলমের মরদেহ তার গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের ১২ঘন্টার মধ্যে এর রহস্য উদঘাটনের পর একই গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার(৩৮) ও তার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত শুভকে (২১) ওইদিন দিবাগত রাত ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা ও ছেলে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায় , নিহত শাহ আলম মোবাইল ফোনে ইয়াছমিন আক্তারকে প্রায় সময় উত্যক্ত করতো। বিষয়টি টের পায় ইয়াছমিনের ছেলে শুভ। সে তার মাকে উত্যক্ত না করতে বারণ করে শাসালেও শাহ আলম ক্ষান্ত হয়নি। এ অবস্থায় মা ও ছেলে মিলে শাহ আলমকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ইয়াছমিন মোবাইল ফোনে শাহ আলমকে তার বাড়িতে আসতে বলে। এ সময় শাহ আলম তার বাড়ি থেকে ওই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথে ওত পেতে থাকা ইয়াছমিনের ছেলে শান্ত ও তার বন্ধু কাঠের টুকরো দিয়ে শাহ আলমের ঘাড়ে আঘাত করে মেরে রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মা ও ছেলে আদালতে একই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অপর আসামির নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর