অদম্য বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করে শুরু করেন দেশের মানুষের জন্য ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মত উন্নয়নমূলক কাজ এবং বৃহত্ প্রকল্পসমূহ। বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজ দেশের অর্থায়নে এমন বৃহত্ প্রকল্প শুরু করে বিশ্ব দরবারে দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতার পরিচয়। বর্তমানে এর কাজ চলমান। নদীর দুই পাশের রাস্তার কাজ সম্পন্ন শেষে এখন মূল সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এগিয়ে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম নমুনা মেট্রোরেলের কাজ। মেট্রোরেলের কাজ সম্পন্ন হলে ঢাকা শহরের তীব্র যানজটের অবসান ঘটবে। দ্রুত এগিয়ে চলছে এই মেট্রোরেলের কাজ। তৈরি হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র। বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। একসময় মানুষ লোডশেডিং শব্দে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো, সেই শব্দ এখন মানুষের কাছে অপরিচিত। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে গেছে এখন। পুরনো সেই কথা আজ ভুলে গেছে মানুষ। আজ একের পর এক বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে দেশে। নতুন নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে এখন। ঢাকা-বরিশাল ফোর লেন রাস্তা, নতুন রেলপথ তৈরি, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেল, নতুন নতুন রেলপথ তৈরি এর সবটাই শেখ হাসিনার অবদান।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নিয়ে এসেছেন যুগান্তকারী পরিবর্তন। অসংখ্য গ্রামে তৈরি করে দিয়েছেন ক্লিনিক, যেখানে গরিব এবং অসহায়রা ফ্রি চিকিত্সাসহ ওষুধও বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন তারই সময়ে শুরু হওয়া শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন ইউনিট এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি নামে বৃহত্ হাসপাতাল। তৈরি হয়েছে গভীর সমুদ্র বন্দর। সম্প্রতি চলছে পায়রা সমুদ্র বন্দরের কাজ। এর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ অঞ্চলে গড়ে উঠছে নানা শিল্প কারখানা। রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে আগের সকল সময়ের চেয়ে। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করেছেন অন্যান্য  সকল সময়ের চেয়ে বেশি। নানা সুযোগ-সুবিধাসহ বেতনভাতা বৃদ্ধি করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়েই বেড়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। আজ নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষভাবে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জন্য সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ মিশনেও নারীদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। বেড়েছে মাথাপিছু আয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন আবাসিক হল ও ভবন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে বিজয় একাত্তর হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, ৭ মার্চ ভবন, কর্মচারীদের জন্য তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, কাজ চলছে শেখ রাসেল টাওয়ারের।

দেশের প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইট উেক্ষপণও জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ নামে প্রথম স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধশালী এক উন্নয়নশীল দেশ। বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগ। বিসিএসসহ সকল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ এবং পরীক্ষা যথাসময়ে এবং দ্রুতগতিতে হচ্ছে। জনসংখ্যার আধিক্যের পরেও ধীরে ধীরে বেকারত্ব হার কমে আসছে। ননক্যাডার নিয়োগ চালু হয় শেখ হাসিনার সময় থেকেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সীমান্ত এবং ছিটমহল সমস্যা সমাধান করেছেন দক্ষ নেতৃত্বে। সমুদ্রসীমা বিজয়, ছিটমহল ভাগাভাগি, সীমান্ত সমস্যা সমাধান সবটাই শেখ হাসিনার অবদান। শেখ হাসিনার অবদানের ফলে আজ জানুয়ারির ১ তারিখে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বিনামূল্যে বই হাতে পাচ্ছে। শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে স্বাক্ষরতার হার। তৈরি হয়েছে অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা। সম্প্রতি ২৭১টি কলেজ সরকারিককরণ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি কোটা সংস্কারও মেনে নিয়ে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে মন জয় করে নিয়েছেন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের। সম্প্রতি দিয়েছেন কওমী শিক্ষার স্বীকৃতি। বিশাল এক জনসভার মাধ্যমে হেফাজত ইসলাম তাকে কওমী জননী উপাধি দেয়।  MDG এ (millennium development goals.) অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়