ইলিশের প্রাচুর্য তবু দাম চড়া

মো. জিল্লুর রহমান

 

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। সাগর ও নদী দুই জায়গাই ইলিশের বিচরণক্ষেত্র। ইলিশ পছন্দ করে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর। ইলিশ স্বাদে ও গুণে অতুলনীয়। বিগত বছরগুলোতে ইলিশ প্রাপ্তির অপ্রতুলতায় মা ইলিশ শিকারের ওপর অবরোধসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে ইলিশের প্রজনন ও উত্পাদন বেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে দাম বেশ চড়া। তবে সাগরের ইলিশের দাম আবার তুলনামূলক কম।

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরা শুরুর পর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। এতে আড়ত্ ও খুচরা বাজারে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখর ইলিশের বাজার। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

তবে গত বছরের তুলনায় এখনো অনেক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। আবার পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। পাইকারি বাজারে ছোট ইলিশ ৩০০ টাকা, বড় ইলিশ ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। অথচ গত বছর একই সময়ে আড়তে ছোট ইলিশ বিক্রি হয়েছিল ২২০ টাকা, আর বড়গুলো ১৫০০ টাকা কেজি দরে। জেলেদের ভাষ্য, কয়েকদিন পর ইলিশের সরবরাহ আরো বাড়বে, দামও কমবে। সামনের পূর্ণিমার জোয়ারকে কেন্দ্র করে ইলিশের আমদানি বেশি হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। 

ইলিশ মাছের আকারও মোটামুটি ভালো। তবে নিয়মিত বৃষ্টি হলে আরো বড় ইলিশ ধরা পড়বে। এ বছর মৌসুমের প্রথম থেকেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না মিললেও জেলেরা শূন্য হাতে ফিরছেন না। মনে হচ্ছে যেন, ইলিশের সেই সুদিন আবার ফিরে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে যে পরিমাণ ও ওজনের একটি ইলিশ মাছের দাম যা ছিল, তা এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্ধেকেরও কমে চলে এসেছে। তা ছাড়া দেড়-দুই কেজির ওজনের পর্যন্ত ইলিশও এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে, আগে যা ছিল স্বপ্নের মতো।

বিশেষ বিশেষ দিনে বিশেষত পহেলা বৈশাখ কিংবা অন্য কোনো পূজা-পার্বণের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে ইলিশ মাছ সোনার চেয়ে বেশি দামি হয়ে যায়। পত্রিকায় খবর আসছে, এখন ইলিশের এলাকা হিসেবে পরিচিত বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ইত্যাদি স্থানে বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করে ইলিশ মাছ বিক্রি করছেন সরাসরি জেলেরা। আর কয়েক বছরের মধ্যে এবারেও প্রচুর মাছ ধরতে পারায় তাঁদের মুখেও সারাক্ষণ হাসির ঝিলিক লেগে থাকছে।

মত্স্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে ইলিশের গতিপথ। বৃষ্টি বেশি হলে নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের আমদানিও বাড়ে। মত্স্যবিজ্ঞানীদের মতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যদি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তবে প্রতি বছরই ইলিশ মাছ সহজলভ্য হবে। এতে করে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হিসেবে পরিচিত ইলিশের হারানো গৌরব ফিরতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না।

ঢাকা