ডা. ইব্রাহিম জীবন উত্সর্গ করেছিলেন মানুষের সেবায়

স্মরণসভায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার জীবন উত্সর্গ করেছিলেন মানুষের সেবায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো রোগী যেন বিনা চিকিত্সায়, অনাহারে কিংবা বেকার অবস্থায় মারা না যায়’—এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার বারডেম হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। স্মৃতিচারণ করেন বারডেমের নেফ্রোলজি ও ডায়ালাইসিস বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনসুর ও বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ বারডেমের সাবেক চিফ নিউট্রিশন অফিসার আখতারুন্নাহার আলো। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর এ লতিফ।

ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষ্যে সমিতি এবং এর সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ৮টায় বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া, সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘর ও ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরের সামনে এবং এনএইচএন ও বিআইএইচএস-এর বিভিন্ন কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও বেলা ১২টায় বারডেম বহির্বিভাগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সমিতির নিজস্ব প্রকাশনা ‘কান্তি’র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে, সমিতির অপর প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ উপলক্ষ্যে হূদেরাগীদের জন্য ‘বিনামূল্যে পরামর্শ ও সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিত্সা সেবা’র আয়োজন করে। এছাড়া এবারও সকাল ১০টায় বারডেম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইব্রাহিম মেমোরিয়াল ওরেশন’। এতে বক্তৃতা করেন পাকিস্তানের বাকাই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল বাসিত।

প্রসঙ্গত, ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার জীবন উত্সর্গ করেছিলেন মানুষের সেবায়। ১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।