যমুনার ভয়াবহ ভাঙন: শাহজাদপুরে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার

যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালারপুর ইউনিয়নের বিশাল অংশ জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া জেলার এনায়েতপুর থানার ঘাটাবাড়ি, বাঐখোলা, পাকুরতলা, আরকান্দি, ব্রাহ্মণগ্রাম, ভেকা ও হাটপাচিল গ্রামের ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় এ সকল গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়েছেন শত শত মানুষ। এ সকল পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসহায় এসব মানুষ যমুনার ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙন এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।
 
এদিকে গতকাল শুক্রবার ভাঙন কবলিত ঘাটাবাড়ি গ্রামের এরশাদ আলী, সুজাব আলী, আবু হানিফ, তয়জাল শেখ, কহিনুর বেগম, রুহুল সরকার, শহিদ আলীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে গত ২ দিন হল তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনের তাণ্ডবে সাতটি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এছাড়াও  ভাঙনে  এর মধ্যেই বাঐখোলা গ্রামটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। তারপরে ও তারা এখনও কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গত দুইদিনে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও অসংখ্য বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খান জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে এর মধ্যেই সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি অচিরেই তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

ইত্তেফাক/এএম