নাফীস ইকবাল
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার ছিলেন তিনি। টেস্ট সেঞ্চুরিও আছে নামের পাশে। চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবারের সদস্য—তামিম ইকবালের বড়ো ভাই ও আকরাম খানের ভাতিজা নাফীস ইকবাল। খেলা ছাড়ার পর কোচিং করানোর পাশাপাশি নিজেকে গড়ে তুলছেন ম্যানেজার হিসেবে। চট্টগ্রামে বসে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে জানালেন ম্যানেজার হয়ে ওঠার কারণ ও গল্প। সেই সঙ্গে বললেন নিজের খেলা ছাড়ার গল্পও।
একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—
n ক্রিকেটাররা অবসরের পর কেউ কোচিং, কেউ ধারাভাষ্যকে পেশা হিসেবে নেন। পরিকল্পনা করে ম্যানেজারের মতো ক্যারিয়ার খুব একটা বেছে নিতে দেখা যায় না। আপনি কেন এদিকে এলেন?
4 কোচিং আমি করাই না তা নয়, কোচিং নিয়ে কিছু কাজ করেছি। কিন্তু আমার প্যাশনটা হলো ম্যানেজমেন্ট। আমি সবসময় মনে করি, মন থেকে যে পেশাটা ভালো লাগে, সেটা করা উচিত। আমি আমার খেলোয়াড়ি জীবন থেকে মানুষ নিয়ে কাজ করা, ব্যবস্থাপনা— এসব কাজ করতে পছন্দ করি। তাই যখন সুযোগ এলো, আমি এই পেশাটাকে বেছে নিয়েছি।
n আপনি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খুব আলোচিত অধিনায়ক ছিলেন। পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক অধিনায়কত্ব করেছেন। মানুষ ব্যবস্থাপনার দক্ষতাটা কী সেখান থেকে এসেছে?
4 বলতে পারেন। আমি আমার জীবনে যত ক্রিকেট খেলেছি, তার অধিকাংশ সময়ই অধিনায়ক ছিলাম। আমি যখনই কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হতাম, ঐ দলের জার্সি ডিজাইন থেকে শুরু করে সবকিছুতে জড়িত থাকতাম। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের স্বচ্ছন্দের জন্য আর কী করা যায়, সেটা ভাবতাম। ওখান থেকেই হয়তো এই ব্যাপারটা এসেছে।
n খুলনা টাইটান্সের হয়ে শুরু করেছেন। পরে মাহেলা জয়াবর্ধনের কল্যাণে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যবস্থাপনাও দেখে এসেছেন। সেই অভিজ্ঞতাটা বলেন।
4 আমি মুম্বাইতে গিয়েছিলাম মূলত মুস্তাফিজের দোভাষী হিসেবে। কিন্তু আমাকেই বেছে নেওয়ার পেছনে মাহেলার (খুলনা ও মুম্বাইয়ের কোচ) পরিকল্পনা ছিল, ওদের সিস্টেমটা আমাকে কাছ থেকে দেখানো। ঐ সময়টাকে আমার জন্য ইন্টার্নশিপের সময় বলতে পারেন। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আমাকে অনেক কিছু শেখার ও কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা ম্যানেজমেন্টের মিটিংয়ে আমাকে থাকতে দিয়েছে। খুব ভালো একটা শিক্ষাপর্ব ছিলো।
n বিপিএলও তো কাছ থেকে দেখেছেন। আইপিএলের সঙ্গে বিপিএলের বা খুলনার সঙ্গে মুম্বাইয়ের পার্থক্যটা কেমন?
4 অনেক। আইপিএল বিশ্বের এক নম্বর ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। দারুণ পেশাদারিত্ব ছাড়া তো সেটা সম্ভব না। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সও এখন বিশ্বের অন্যতম লিডিং ফ্রাঞ্চাইজি। তারা অনেক অনেক প্রফেশনাল। তাদের সবসময় প্রধান চিন্তা থাকে, পরিবেশটা কী করে খেলোয়াড়দের জন্য আরো কমফোর্টেবেল করা যাবে। আমি বলছি না যে, খুলনা বা বিপিএল প্রফেশনাল নয়। কিন্তু আমরা তো এখনো শিখছি। আইপিএল অনেকগুলো বছর পার করে এখানে এসেছে। বিপিএল চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি খুলনায় শতভাগ সব প্রফেশনাল করে ফেলতে পেরেছি, তা নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি। এভাবে চললে আমরা একসময় আইপিএলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবো।
n একটু অন্য প্রসঙ্গ। আপনার যারা ক্রিকেটে সতীর্থ ছিলেন, তারা অনেকেই এখনো দাপটের সঙ্গে খেলছেন—মাশরাফি, রাজ্জাক, তুষার। আপনার কী মনে হয় না যে, আপনি খুব তাড়াতাড়ি খেলাটা ছেড়ে দিয়েছেন?
4 আমি যখন খেলা ছাড়ি, আমার বয়স ছিলো ৩২। হ্যাঁ, খেলা হয়তো আমি আরো দু-চার বছর জোর করে চালাতে পারতাম। কিন্তু আমি নিজের কাছে অনেস্ট থাকতে চেয়েছি। আমি যে মৌসুমে খেলা ছেড়েছি, তার আগের বছরও ক্যাপ্টেন ছিলাম। কখনো কখনো আমি দেখলাম, ফিল্ডার হিসেবে মাঠে আমাকে লুকিয়ে রাখতে হচ্ছিলো। মানে, আমি সেরা অবস্থায় ছিলাম না। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি খেলাটার সঙ্গে প্রতারণা করতে চাইনি। মনে হয়েছে, আমার সময় শেষ।
n শেষ প্রশ্ন। ম্যানেজমেন্টেই যেহেতু আছেন, জাতীয় দলের ম্যানেজার হতে চান না?
4 অবশ্যই চাই। তবে এখানেও সততার সঙ্গে বলতে চাই—আমার এখনো সময় হয়নি। আমি এখনো শিখছি। আমাকে গতবছর ‘এ’ দলের দুটো সফরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেটা ধারাবাহিক থাকলে হয়তো আরো দ্রুত শিখতে পারতাম। তবে আমি সবসময় শেখার মধ্যে আছি। অবশ্যই জাতীয় দলের ম্যানেজার হতে চাই। তবে সেটা সময় হলে।