হ্যাটট্রিকের অপর নাম মালিঙ্গা!

স্পোর্টস ডেস্ক

টেস্ট ছেড়েছেন অনেক আগেই, ওয়ানডেও ছাড়লেন গত জুলাই। খেলেন কেবল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটই। আর কদিন বাদেই হয়তো সবরকম ক্রিকেটই ছেড়ে দেবেন। এমন সময়ে মালিঙ্গা যেন বুঝিয়ে দিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ধার কমেনি, বরং বেড়েছে।

পালেকেল্লেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবার রাতে তিনি কেবল হ্যাটট্রিকই করেননি, ৪ বলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১২ বছর আগেও মালিঙ্গা ঠিক একই কাজ করেছিলেন। ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গায়ানাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে টানা ৪ বলে ৪ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা করেন। দলকে ১ রানের অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন মালিঙ্গা। ঐ ম্যাচে মালিঙ্গার শিকার হয়েছিলেন—শন পোলক, অ্যান্ড্রু হল, জ্যাক ক্যালিস ও মাখায়া এনটিনি।

আর এবার কলিন মুনরোকে ১২ রানে বোল্ড করে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া একমাত্র ক্রিকেটার বনে যান। এরপর তিন নম্বরে নামা হামিশ রাদারফোর্ডকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। চার নম্বরে নামা কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে শূন্য রানে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এখানেই থামেননি, ঠিক পরের বলেই পাঁচ নম্বরে নামা রস টেইলরকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউয়ে আউট করেন মালিঙ্গা। পেয়ে যান ডাবল হ্যাটট্রিক। ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে তারই হাতে।

টি-টোয়েন্টিতে এটা দ্বিতীয় ডাবল-হ্যাটট্রিকের কীর্তি। রেকর্ড বইয়ে এই তালিকায় সবার আগে নাম তুলেছেন আফগানিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক ও সময়ের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৪ বলে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রশিদ।

এবার রশিদের পাশে নিজের নাম তুললেন মালিঙ্গা। যদিও, সব ফরম্যাট মিলে মালিঙ্গাকে অবশ্যই হ্যাটট্রিকের রাজা বলে রায় দিয়ে দেওয়া যায়। ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চসংখ্যক হ্যাটট্রিকের মালিক। পাঁচবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি।

এরমধ্যে তিনবার ওয়ানডে ও দুইবার টি-টোয়েন্টিতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই হ্যাটট্রিক দিয়েই পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও বাঁ-হাতি পেসার ওয়াসিম আকরামকে পেছনে ফেললেন মালিঙ্গা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চারবার হ্যাটট্রিক করেছেন আকরাম। টেস্টে ও ওয়ানডেতে দুইবার করে।

সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার। জয়ের জন্য ১২৬ রানের লক্ষ্য তারা দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ডের সামনে। আগের দুই ম্যাচে ১৭৫ ও ১৬২ রানের টার্গেট দুর্দান্ত পারফরমেন্সে স্পর্শ করেছিল নিউজিল্যান্ড। ফলে, এই অল্পতে তাদের আটকানো ছিল অসম্ভব একটা স্বপ্ন। তবে, শুরুতেই মালিঙ্গার ধাক্কাতে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পরবর্তীতে আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ১৬ ওভারে ৮৮ রানেই অলআউট হয় সফরকারি ব্ল্যাককাপরা।

মালিঙ্গা ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে কম রান দিয়ে ৫ উইকেট পাওয়ার নজীর আছে আর মাত্র দুইটি। সেই দুই জন হলেন আফগানিস্তানের রশিদ ও শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ। দুই জনই ৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

মজার ব্যাপার হল, মালিঙ্গার এই হ্যাটট্রিকটা ক্রিকেটের ইতিহাসের ১০০তম হ্যাটট্রিক। এরমধ্যে টেস্টে হয়েছে ৪৪টি হ্যাটট্রিক, ওয়ানডেতে ৪৮টি। আর টি-টোয়েন্টিতে আটটি।