ভোলায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি

মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। বছরজুড়ে অভাব-অনটনে দিন কাটলেও মৌসুমের শেষদিকে ইলিশের দেখা মেলায় হাসি ফুটেছে ভোলার জেলেদের মুখে। ভোলার বিভিন্ন মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে এখন উত্সবের আমেজ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে মত্স্য বিভাগ।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এই চার মাস ইলিশের মৌসুম হলেও চলতি বছর ভোলা জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়াসহ উপকূলীয় নদ-নদীগুলোতে ইলিশ ছিল দুর্লভ। তাই অভাব-অনটনে দিন কেটেছে জেলেদের। মৌসুমের প্রথম দিকে ইলিশ একেবারে কম থাকলেও গত দুই/তিন দিন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। ইলিশের আকারও একটু বড়ো। ফলে জেলেদের মুখে কিছুটা হাসি ফুটতে শুরু করেছে।

ভোলা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, গতবছর ভোলা জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হয়েছিল যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন বেশি। তাই এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। ভোলা জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী ও এর শাখা নদীসমূহ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ আহরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯০ কিলোমিটার জলসীমা ইলিশের অভয়ারণ্য। 

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আরো  জানান, আগস্টে সাগরে ইলিশ পাওয়া গেলেও মেঘনা ও তেতুলিয়ায় কাঙ্ক্ষিত  ইলিশ পাওয়া যায়নি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের  মাঝামাঝি  মেঘনা ও তেতুলিয়ায় পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ নদীতে আসতে শুরু করেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ইলিশের মৌসুমেরও কিছু পরিবর্তন হয়েছে, তাই চলতি বছর নদীতে ইলিশ আসতে বিলম্ব হয়েছে। ভোলায় এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০০ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করছে জেলেরা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যার পরিমাণ ১ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে ভোলা মত্স্য বিভাগ।

ভোলার কয়েকটি মাছ বাজারে গিয়ে ইলিশের আগমন বেশি দেখা গেলেও ক্রেতারা বলছেন দাম কমেনি। ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রামের তদূর্ধ্ব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে।