লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা
লালমোহনে সড়কে মোটা রেইনট্রি গাছ রেখেই আরসিসি ঢালাই দিয়ে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করেছে উপজেলা এলজিইডি। এই অবস্থায় সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ছোটো-বড়ো যানবাহন। গত জুলাই মাসে সড়কটিতে আরসিসি ঢালাই দেওয়ার জন্য রডের খাঁচা তৈরি করা হয়। সে সময় বিষয়টি এলজিইডি অফিসকে জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। আর এখন পর্যন্ত ঐ সড়কটির মাঝে গাছ দুটি রয়েই গেলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমোহন উপজেলার ফুলবাগিচা বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে কর্তারহাট পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে লালমোহন উপজেলা এলজিইডি। এই প্রকল্পটির কাজের শুরু থেকেই নানান ধরনের অনিয়মের প্রশ্ন উঠতে থাকে। যার কারণে বেশ কয়েক মাস বন্ধ ছিল প্রকল্পের কাজ। পরে আবার কাজ শুরু করলেও প্রকল্পের শেষ প্রান্তে কর্তারহাট এলাকায় সড়কের প্রবেশদ্বারে মোটা আকারের দুটি রেইনট্রি গাছ রেখেই আরসিসি ঢালাই দিয়ে প্রকাল্পের কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গাছ দুটি অপসারণে কোনো ভূমিকা নেয়নি উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা।
স্থানীয় দেওয়ালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী, মুনাফ ও হাটকি সাত্তারসহ অনেকে জানান, সড়কের মাঝখানে গাছ রেখে আরসিসি ঢালাই দেওয়ার আগে রডের খাঁচা তৈরি করা হয়। সে সময় অনেকেই গাছ দুটি অপসারণ করার জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কিংবা এলজিইডি অফিসের কর্তাব্যক্তিরা কেউ কথা শোনেনি। এখন যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। লালমোহন উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এখনো ঠিকাদারের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়নি। নতুন সড়ক নির্মাণ করতে গেলে এরকম হাজারো সমস্যা ধরা পড়ে। আবার আমরা তা ঠিক করে দেই। তিনি আরো বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে দেরি হওয়ায় গাছগুলো কাটা হয়নি। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই গাছগুলো অপসারণ করা হবে। এদিকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পে তিনটি ছোটো ব্রিজ এবং তিনটি কালভার্ট রয়েছে। সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হলেও কালভার্টগুলোর টপে (ওপর স্থানে) কার্পেটিং দেয়া হয়নি। এর ওপর দিয়েই যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে গেছে। কালভার্টগুলোর ওপরে কার্পেটিং না থাকায় হোঁচট খাচ্ছে যানবাহন। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠছে।