বগুড়ায় বাফার গুদামের ৩ কোটি টাকার সার লোপাট

বিসিআইসির বগুড়া বাফার গুদামের (আপদকালীন মজুদ) প্রায় ৩ কোটি টাকার সার লোপাট হয়েছে । বিসিআইসির এক তদন্তে এই সার লোপাটের বিষয়টি ধরা পড়েছে।

বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসির বাফার গুদাম। এর ধারণক্ষমতা ১২ হাজার মেট্রিকটন। ২০১৮ সাল থেকে বগুড়া বাফার গুদামের ইনচার্জ ছিলেন ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন। গুদামের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ কারিগরি কর্মকর্তা (উত্পাদন) ছিলেন মো. নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি এই দুই কর্মকর্তাকে বগুড়া বাফার গুদাম থেকে বদলি করা হয়। আনোয়ার হোসেন যান বগুড়ায় অবস্থিত উত্তরাঞ্চলীয় বাফার নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) পদে। আর নাজমুল ইসলামকে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল) বাণিজ্যিক/বিক্রয় শাখায় বদলি করা হয়। বাফার গুদাম সূত্রে জানা গেছে, এই বদলির পর নতুন কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই প্রায় ৩ কোটি টাকার সার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। আনোয়ার হোসেনকে সরানোর পর বাফার গুদামের ইনচার্জ করা হয় ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) আকতারুল ইসলামকে। তিনি দায়িত্ব নিতে গিয়ে দেখতে পান, গুদামের সারের টাকা ব্যাংকে জমা পড়েনি। জেএফসিএলের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ওয়ায়েছুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখতে   শুরু করেন।  বিষয়টি বিসিআইসির প্রধান কার্যালয়ের নজরে এলে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. মঞ্জুর রেজা জেএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বগুড়া বাফার গুদামের নিবন্ধনে সারের হিসাবের গরমিল রয়েছে। ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে গুদামের হিসাবের অমিল ও গুদামের সরবরাহ করা পরিবহন ঠিকাদারদের সারের অনিয়ম বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর জেএফসিএল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রায় ১৫ দিন বগুড়ায় অবস্থান করে এই তদন্ত কমিটি। তারা গত ৪ আগস্ট জেএফসিএল কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ঐ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২৩৯ মেট্রিকটন সার বগুড়া বাফার গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। অথচ ঐ সারের টাকা ব্যাংকে জমা পড়েনি। ঐ সারের মূল্য ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আবার বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসা ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৬৩ মেট্রিকটন সার গুদামজাত করার অনুপযোগী ছিল। কারণ, এই সারের বস্তা ছেঁড়াফাটা ছিল। এই বস্তাগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পুনরায় বস্তাভর্তি করে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে গুদামে ঐ সারের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এই সারের মূল্য ২ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৮২০ টাকা।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক দুলালউদ্দিন মোবাইলে বলেন, তাদের তদন্তে গুদামের ২৩৯ মেট্রিকটন সারের অনিয়ম ও ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৬৩ মেট্রিকটন সার লোপাটের প্রমাণ মিলেছে। এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুদামের কর্মকর্তারা জড়িত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুদামের ২৩৯ মেট্রিকটন সারের অনিয়মের ক্ষেত্রে তত্কালীন গুদাম ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন এবং কারিগরি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সমানভাবে দায়ী। আর ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৬৩ মেট্রিকটন সার লোপাট হয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ও কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে। তবে নাজমুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, ‘আমি এক বছর হলো বগুড়া বাফার গুদাম থেকে চলে এসেছি। আমি এগুলোর সঙ্গে নেই।’ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গুদামের ২৩৯ মেট্রিকটন সার ভুলে হয়তো কারও কাছে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি কাজ করছি। এরমধ্যে কিছু সারের খবর পাওয়া গেছে। আর অন্য সারের বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত হচ্ছে।’