জিম্বাবুয়ের জাতির পিতা ও স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের প্রয়াণে দেশটিতে সপ্তাহজুড়ে শোক পালন করা হবে। একই তাকে জাতীয় বীরের মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। গত এপ্রিল থেকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুগাবে। গত শুক্রবার তিনি ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার দেশটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। মুগাবেকে জিম্বাবুয়ের জাতীয় বীরদের সমাধিস্থলে সমাহিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাবেক নেতা হারারের ‘হিরো একরে’ সমাহিত হওয়ার দাবি রাখেন। শুক্রবারই প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনাঙ্গাওয়া মুগাবেকে জাতীয় বীর ঘোষণা করেন।
মুগাবের ভাতিজা লিও মুগাবে বলেন, রবার্ট মুগাবের মরদেহ দেশে আনা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মুগাবেকে সমাহিত করার জন্য সরকার যে জায়গা নির্ধারণ করেছে সেই পাহাড়ের চূড়ায় তিন গেরিলা যোদ্ধার বোঞ্চের বড় মূর্তি রয়েছে। এটি উত্তর কোরিয়ার স্থপতিদের সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে আদালতে যাবেন বিরোধী এমপিরা
তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন মুগাবে। তার মৃত্যুতে দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আফ্রিকা থেকে ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা দূর করতে মুগাবে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন, যার জন্য তিনি পুরো আফ্রিকায় নায়কের সম্মান পেতেন। কিন্তু সেই মুগাবেই পরিণত হয়েছিলেন স্বৈরশাসকে।
ক্রমাগত মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এক সময়কার সমৃদ্ধশালী জিম্বাবুয়েকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিলেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, জিম্বাবুয়েকে বহু বছর তাড়া করে বেড়াবে মুগাবের রাজনীতির লিগ্যাসি।
ইত্তেফাক/এমআর