কনজ্যুমার রিপোর্টে নির্ভরযোগ্যতা হারাচ্ছে এপসনের প্রিন্টার

কনজ্যুমার রিপোর্টে (সিআর) ১ লাখ প্রিন্টারের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু এইচপি মডেলের প্রিন্টারেও সমস্যা পাওয়া গেছে।

প্রায় এক বছর আগে, আর্লিন হুসমান নামে কানাডার একজন অবসরপ্রাপ্ত মেকানিক তার বাড়িতে ব্যবহারের জন্য একটি এপসন এক্সপি-৮৩০ অল-ইন-ওয়ান ইঙ্কজেট প্রিন্টার কিনেছিলেন। প্রিন্টারটির গুণগত মান অনেক ভালো। তিনি বলেন, ‘৪০ থেকে ৫০টি কাগজ প্রিন্ট হওয়ার পর কালি শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হয়। এপসন ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ৪০০ থেকে ৫০০ পৃষ্ঠার তুলনায় এ সংখ্যাটি অপ্রত্যাশিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘রিফিলগুলোর মূল্য ৩০ ডলার সঙ্গে ট্যাক্স তো রয়েছেই। ৪০ থেকে ৫০ পৃষ্ঠার জন্য আমার কাছে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে মনে হয়।’

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৯টি প্রিন্টারের মধ্যে হুসমানের প্রিন্টারটিও রয়েছে।  এপসন, এইচপিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রিন্টার নিয়ে হতাশা প্রকাশকারীর তালিকায় হুসমান একা নন।

নতুন জরিপে গ্রাহক হতে প্রাপ্ত ১৪টি প্রিন্টারের তথ্যানুযায়ী অভিযোগ কিছুটা কমে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে- এপসন রেগুলার ও সমস্ত অল-ইন-ওয়ান ইঙ্কজেট, এইচপির রেগুলার ইঙ্কজেট এবং স্যামসাংয়ের রেগুলার ও অল-ইন-ওয়ান কালার লেজার প্রিন্টার।

কনজ্যুমার পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষার পরিচালক মারিয়া রিরিসিচ বলেন, ‘এখানে প্রিন্টার উত্পাদনকারীদের পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যে পারফরম্যান্স টেস্ট করি তাতে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রিন্টার গ্রহযোগ্যতার দিক থেকে পিছিয়ে পরছে। যদি প্রিন্টার উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানরা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পারে, তাহলে তাদের পণ্যে অবশ্যই ভালো রেটিং আসবে।’

তিনি বলেন,‘আমাদের সমীক্ষার কারণে অনেক প্রিন্টার যখন তাদের নির্ভরযোগ্যতা হারায় তখন আবার অনেক প্রিন্টার সুবিধা ভোগ করতে থাকে।’

খারাপ বা ফেয়ার স্কোরের জন্য কোনো ব্র্যান্ড নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সিআর সুপারিশ গ্রহন করে না। গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া যখন এপসনের কাছে এসে পৌঁছেছে তখন তারা প্রিন্টারগুলোর নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়।

মেরিট উডওয়াল্ড নামের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এপসন কনজ্যুমার রিপোর্ট বিশ্বাস করে না। এপসন প্রিন্টার ও আসল কালির গ্রহণযোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রিন্টার বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া হচ্ছে ব্যবহারকারীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এপসন সব সময় গ্রাহকদের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে আসছে।’

কনজ্যুউমার রিপোর্ট ২০১৯-এ অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টারের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ২০১৭-১৮ সালে গ্রাহকদের কেনা প্রিন্টারের মডেলগুলোর মধ্যে ৮০% ছিল অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টার। মাত্র ২ শতাংশ প্রিন্টার মডেলের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। আমাদের নিয়মিত প্রিন্টারগুলো ও কালিসংক্রান্ত বিষয় কনজ্যুমার রিপোর্ট হয়নি। কম জনপ্রিয় প্রিন্টারের ওপর জরিপ হয়েছে।

বর্তমানে কনজ্যুমার রিপোর্টের রেটিংয়ে দুই শতাধিক প্রিন্টার রয়েছে। এগুলোর সবকটিই কনজ্যুউমার রিপোর্ট টেস্ট করা হয়েছে। প্রিন্টারগুলো খুচরা কেনা হয়েছিল।

অভিযোগের তালিকায় কালি খরচ বেশি

কনজ্যুমার রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত দুইটি প্রিন্টার সম্পর্কে এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যেগুলো ২০১১ এবং ২০১৮ সালে তার বাসায় ব্যবহারের জন্য কেনা হয়েছিল। নির্ভরযোগ্যতার স্কোর অর্জনের জন্য, কনজ্যুমার রিপোর্টে বিশেষ কোনো মডেলের প্রিন্টারকে বেছে নেওয়া হয়। যেগুলো কেনার চার বছর পর এসে কাস্টমার কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় তা গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবহারকারীরা বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ছিল তাদের প্রিন্টারের কার্টিজ প্রতিস্থাপনে  অধিক ব্যয় হয়।  এ সমস্যাটি প্রতিটি কোম্পানির ইঙ্কজেট প্রিন্টারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

জরিপে উত্তর দাতাদের মতে, সমস্ত ইঙ্কজেট প্রিন্টারের ২৮ শতাংশতে কালি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে কম কালি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা হলো ২১ শতাংশ। কোডাক-এর অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টারের সংখ্যা ৪২ শতাংশ এবং এইচপি রেগুলার ইঙ্কজেট প্রিন্টার ও এপসন অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টারের সংখ্যা ৩১ শতাংশ।

কিছু ব্যবহারকারীরা কনজ্যুমার রিপোর্টে বলেছে, তদের প্রিন্টারের নেটওয়ার্ক কানেকশন ফেলে দিয়েছে অথবা তারা নিম্ন মানের প্রিন্টার তৈরি করছে।  অল্প সংখ্যক লোকেরা জানিয়েছে, তাদের প্রিন্টারে তৃতীয় পক্ষের কালি ও কার্টিজ কাজ করছে না । ১০ শতাংশ প্রিন্টারে পেপার জ্যাম হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়।

জ্যাক রুবিন নামের একজন প্রকৌশলী তার  অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন, তিনি তার এইচপি ইঙ্কজেট প্রিন্টারের বাইরে থেকে কিছু সমস্যা অনুভব করেন। তিনি জানান, অনেক সয়ম কাগজ সঠিকভাবে গ্রহণ করে না তার প্রিন্টার। অনেক সময় অর্ধেক কাগজ প্রবেশের পর তা জ্যাম দেয়ায়। অনলাইনের মাধ্যমে তিনি আবিষ্কার করেন যে, এই সমস্যাটি অনেক প্রিন্টার মালিকরাই ভোগ করছেন।

রুবিন প্রিন্টার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পেপার ফিড ক্লিনার কিট পেয়েছিলেন যা তার জন্য খুব সহায়ক হয়েছে।  তিনি আরো জানান, সমস্যাটি তার এখনো হচ্ছে।

 রুবিন বলেন, ‘আমি এই প্রিন্টারটি ভালো ব্র্যান্ড দেখে কিনেছিলাম। ভেবে ছিলাম এটি খুব ভালো হবে তবে, এটি খুব ভালোভাবে ডিজাইন করা হয়নি।’

 

কনজ্যুমার যা করতে পারেন

কোনো ইঙ্কজেট প্রিন্টারই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে উচ্চ রেটিং অর্জন করে না, কিন্তু কিছু কিছু প্রিন্টার আবার বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করেছে। লেজার প্রিন্টারগুলো ভালো ফলাফল অর্জন করেছে কনজ্যুমার রিপোর্টে।

কালার প্রিন্টারের পাশাপাশি সাদা-কালো লেজার প্রিন্টারে ব্রাদার্স, ক্যানন, এইচপি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।  দীর্ঘকালীন সময়ে কিছু লেজার প্রিন্টার আপনার অর্থ সাশ্রয় করতে পারে। যদিও এটি বিপরীতমুখী হতে পারে, কারণ ইঙ্কজেট প্রিন্টারের তুলনায় লেজার প্রিন্টারের টোনারের দাম বেশি হতে পারে। তবে টোনার কার্টিজ কালি কার্টিজের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।

কনজ্যুমার রিপোর্ট-এর প্রিন্টার টেস্টের নেতৃত্বদানকারী রিচ সুলিন বলেন, ‘আপনি যদি আগামীতে দীর্ঘদিন প্রিন্টার ব্যবহার করতে চান তাহলে লেজার প্রিন্টার আপনার জন্য উপযোগী। প্রিন্টার পছন্দে অনেকেরই সেরা হলো লেজার প্রিন্টার।’

সুলিন আরো বলেন,‘যদিও লেজার প্রিন্টারগুলো ছবি প্রিন্টের ক্ষেত্রে ইঙ্কজেটের সঙ্গে মেলে না। ছবি প্রিন্ট করার জন্য প্রিন্টার কিনলে আমাদের রেটিং দেখে কিনতে পারেন।’

সূত্র : কনজ্যুমার রিপোর্টস