চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) থেকে সুবিধা আদায়ে বাংলাদেশকে আরো আলোচনা করতে হবে। সেইসঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের শর্তগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ যাতে বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে না পড়ে, সে জন্য সতর্কতার সাথে এগোতে হবে। গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড :বাংলাদেশের তুলনামূলক অবস্থান বিষয়ে দিনব্যাপী সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। উদ্বোধনী পর্বে সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শহিদুল হক এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান। মূল উপস্থাপনা পেশ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। আলোচনায় অংশ নেন, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন স্টাডিসের মহাপরিচালক সচিন চতুর্ভেদি এবং চীনের ইউয়ান একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স এর ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিস এর অধ্যাপক চেং মিং।
মূল উপস্থাপনায় ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বিসিআইএম ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে চীনের এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পারে। তবে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরো সতর্ক থাকতে হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩৩২ কোটি ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে বাংলাদেশে। যার বড় অংশ এসেছে চীনা বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে। বাংলাাদেশে বৈদেশিক উত্স থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়ছে। ২০০৭ সালে বৈদেশিক উেসর ঋণের পরিমাণ ১৯৩৫ কোটি ডলার হতে ২০১৮ সালে ৩৩৫১ কোটি ডলার হয়েছে। বৈদেশি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ঋণের ফাঁদ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আঞ্চালিক সড়কে যুক্ত হতে বাংলাদেশকে জ্বালানি ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বছরে গড়ে জিডিপির এক থেকে দেড় শতাংশ হারে এই খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের শর্তগুলোর দিকে। দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে টেন্ডার থেকে শুরু করে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। বিআরআই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের ফলে এই অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, বিশ্বের ৬১ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন এশিয়ায় রয়েছে। এর ২৭ ভাগ রয়েছে চীনে। চীন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করছে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আরো বাড়বে। বিআরআইয়ের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা দরকার। বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে পড়া শ্রীলঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশটি যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে চীন ছাড়াও অন্যান্য উত্স হতে প্রচুর বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে। কিন্তু লাভজনক ভাবে এ অবকাঠামোকে ব্যবহার করতে পারেনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের সামরিক জোটে যোগদান এড়িয়ে চলছে। নিজেদের স্বার্থরক্ষা করেই অন্য জোটে যোগদান করছি। আমরা চীনের বিআরআই-এ যোগ দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা লাভবান হবো বলে আশা করি। এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা, বাণিজ্য, যোগাযোগসহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়বে।