অর্থনৈতিক করিডর করে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন করতে হবে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রাকৃতিক সম্পদ, গ্যাস সংযোগ থাকার পরেও দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জেলাগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। অবকাঠামো সংকট বিশেষ করে যাতায়াত, পরিবহন, শিক্ষা ও সামজিক অবকাঠামোর অভাবে পিছিয়ে আছে এই অঞ্চল। দেশের পূর্ব ও উত্তর অঞ্চলের জেলাগুলোকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য নতুন একটি করিডর হিসেবে গণ্য করে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এডিবি ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ আয়োজনে এক সেমিনারে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নয় জেলার সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্প নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে চারটি করিডোরে ভাগ করে উন্নয়নে পৃথক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে এডিবি। ইতিমধ্যেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়ে এডিবি বলেছে, ঐ অঞ্চলে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ২০৫০ সাল নাগাদ বার্ষিক আয় ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও করিডরের মাধ্যমে তা ১৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত আড়াই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। তবে উত্তর-পূর্ব করিডর বাস্তবায়নের মাধ্যমে কী পরিমাণ আয় বাড়বে তা আগামী বছরের মার্চের মধ্যে প্রকাশিত সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। এসময় জানানো হয়, দেশে মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ উত্পাদন (জিডিপি) ২০১৭ সালে ১৫১৬ ডলারে উন্নীত হলেও নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সিলেটের মানুষের বছরে মাথাপিছু দেশজ উত্পাদন ১৪০৯ ডলার।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এডিবির প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে আসা সমস্যা ও এর থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য সমাধানগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এগুলো শেষ হলে সারা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি বলেন, দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এডিবির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবতা ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মনমোহন প্রকাশ বলেন, এখানে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করতে পারলে চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, স্থানীয়দের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। এ অঞ্চল থেকে ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ঢাকাকে কেন্দ্র করে দেশে অসম উন্নয়ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটিতে শিক্ষা অবকাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পরিবহন অবকাঠামো বিশেষ করে রেল, সড়ক ও নদীপথে দুর্বলতা রয়েছে। ধনী মানুষের হারে সারা দেশের শীর্ষে থাকা নারায়ণগঞ্জ ও শিল্পসমৃদ্ধ গাজীপুর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মাথাপিছু আয়ের বিচারে পিছিয়ে আছে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল।