সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
দেশের প্রথম উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণ করতে কক্সবাজারের উখিয়ার বড়বিল গ্রামে ১৬০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দিয়েছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে পৌঁছানো হয়েছে। গত বুধবার প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি দল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ জানান, কারা অধিদপ্তরের আবেদন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব এবং সুপারিশের প্রেক্ষিতে উখিয়া উপজেলাধীন পাগলির বিল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ৮০৩ নম্বর দাগের ১৬০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ার সিআরপির আদলে লঘু অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ১৬০ একর জমি জুড়ে এ কারাগার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জেল সুপারের মতে, উন্মুুক্ত কারাগারে বন্দিরা কারাগারের সীমানার মধ্যেই থাকবেন। তবে কাজের জন্য তারা বাইরে যাওয়া-আসার সুযোগও পাবেন। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন কারাগার রয়েছে। এসব কারাগার মূলত সংশোধনাগারের আদলে গড়ে তোলা হয়।
কারা মহাপরিদর্শক এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। উন্মুক্ত কারাগারে বন্দিরা যেমন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন, তেমনি গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
উন্মুক্ত কারাগার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার রীতেশ চাকমা বলেন, নির্ধারিত সাজার অর্ধেকের বেশি সময় যেসব বন্দি পার করেছেন এবং যারা কারাগারে ভালো আচরণ করেছেন, কেবল তাদেরই উন্মুক্ত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রশিক্ষণে যারা ভালো করবেন, তাদের উন্মুক্ত কারাগারের বাইরেও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এসব বন্দি সকালে কাজের জন্য কারাগার থেকে বেরিয়ে যাবেন, সন্ধ্যায় কাজ শেষে আবার উন্মুক্ত কারাগারে ফিরে আসবেন। কেউ ফিরে না এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রাসেল চৌধুরী বলেন, উখিয়ার কৃতী সন্তান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের একান্ত প্রচেষ্টায় হলদিয়ার অনুন্নত ও পিছিয়ে থাকা একটি গ্রামে উন্মুক্ত কারাগারটি হচ্ছে।
হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, ২০১৬ সাল থেকে কয়েক দফা উন্মুক্ত কারাগারের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন করেন জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দের নেতৃত্বে উখিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কারা সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত কারাগারের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শনে উখিয়ার বড়বিল গ্রামে যান সাবেক কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এদিকে, বন্দোবস্তির আওতায় আসা ১৬০ একর জমির যেসব স্থানে জনবসতি রয়েছে তাদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। বন্দোবস্তকৃত জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরির স্থান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বুধবার বিকালে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তা এসব জমি পরিদর্শন করতে যান বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী। জমিতে যাবার আগে পরিদর্শক দল উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনকালে উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।