বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানি, ব্যবহার ও সরবরাহ উন্মুক্ত করে দিয়েছে সরকার। নিরাপত্তা মানদণ্ড ঠিক রেখে যেকোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে পারবে। ঐ এলএনজি আমদানি, পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর, ব্যবহার এবং সঞ্চালনে উদ্যোক্তারা নিজেরাই দরকষাকষি করে ব্যবসা করতে পারবে। এতে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না এবং ভর্তুকিও দেবে না। সরকার বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এলএনজি জাতীয় গ্রীডে ঢোকাতে আগ্রহী নয়। তবে উদ্যোক্তারা চাইলে নিয়ম অনুযায়ী হুইলিং চার্জ দিয়ে সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করতে পারবেন।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পেট্রো সেন্টারে মতবিনিময় সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা একথা বলেন। ‘বেসরকারি খাতে এলএনজি স্থাপনা নির্মাণ, আমদানি ও সরবরাহ নীতিমালা-২০১৯’ নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এলএনজি খাতে বাংলাদেশ নতুন। তাই অনেকে কুপরামর্শ নিয়ে হাজির হয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ভালোভাবে বিশ্লেষণ-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিকভাবে উপযুক্ততা বিচার করে এলএনজি আমদানি-সরবরাহ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে যেভাবে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহে ভর্তুকি দিচ্ছে তা বেসরকারি পর্যায়ে থাকবে না। অর্থাত্ বেসরকারি এলএনজিতে ভর্তুকি দেওয়া হবে না যেমনটি পিডিবি বেসরকারি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে দেয়। এটি ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রয়োজনে এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আমদানি-রিগ্যাসিফিকেশন করবে।
সভায় একজন ব্যবসায়ী নিজেদের ছোটো ছোটো স্থাপনায় এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করতে পারবে কি না এমন প্রশ্ন করলে জ্বালানি সচিব বলেন, নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে যে কোনো ধরনের বাহনে এলএনজি পরিবহন এবং যে কোনো ধরনের স্থাপনায় রিগ্যাসিফিকেশন করতে পারবেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের এক ব্যবসায়ীর প্রশ্নের জবাবে আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, পরিত্যক্ত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রের স্থাপনা এলএনজি লোড-আনলোড বা রিগ্যাসিফিকেশনের জন্য ব্যবহার করা যায় কি না তা সরকার বিবেচনা করছে। সরকার না করলে বা পারলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে পেট্রোবাংলার পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, বিভিন্ন দেশে হোটেলে-শিল্পে ছোটো আকারেও এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশে এটি ব্যাবসায়িকভাবে উপযুক্ত হলে উদ্যোক্তারাও ঐ একইভাবে এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক এ এস এম মঞ্জুরুল কাদের। জ্বালানি বিভাগের উপসচিব ড. মুহা. মনিরুজ্জামান নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।